উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বৃদ্ধ বাবা-মায়ের (Elder mother and father) প্রতি অবহেলা রুখতে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল তেলেঙ্গানা সরকার (Telangana)। সোমবার সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি (CM Revanth Reddy) ঘোষণা করেছেন, যে সকল সরকারি কর্মচারী তাঁদের বাবা-মায়ের সঠিক দেখাশোনা করবেন না, তাঁদের মাসিক বেতনের ১০ শতাংশ কেটে নেওয়া হবে (10% Wage Minimize)। ওই অর্থ সরাসরি ভুক্তভোগী বাবা-মায়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট জানান, অসহায় বাবা-মায়েরা যদি সন্তানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান, তবে সরকার তা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখবে। পারিবারিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে এবং প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর আইন আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। প্রবীণদের সহায়তার জন্য সরকার ‘প্রণাম’ নামে ডে-কেয়ার সেন্টার খোলারও পরিকল্পনা করেছে।
শুধু কড়া বার্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি রেবন্ত, বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য আয়োজিত ওই সরকারি অনুষ্ঠানে একাধিক বড় ঘোষণাও করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, ২০২৬-২৭ সালের বাজেটে রাজ্যের জন্য একটি নতুন স্বাস্থ্যনীতি পেশ করা হবে। একইসঙ্গে বিশেষভাবে সক্ষমদের বিনামূল্যে বিশেষ মোটরচালিত যানবাহন ও ব্যাটারিচালিত ট্রাইসাইকেল বিতরণ করা হবে। ল্যাপটপ, শ্রবণযন্ত্র এবং স্মার্টফোনের মতো আধুনিক সরঞ্জাম দেওয়া হবে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও তাঁদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সামাজিক অন্তর্ভুক্তির পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি জানান, আগামী পুরসভা নির্বাচনে প্রতিটি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে একজন করে রূপান্তরকামী সদস্যকে ‘কো-অপশন’ মেম্বার হিসেবে মনোনীত করা হবে। এর ফলে রূপান্তরকামীরা সরাসরি নিজেদের সমস্যার কথা প্রশাসনের কাছে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।
রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপে বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি ও রূপান্তরকামীদের পাশাপাশি প্রবীণ নাগরিকদের মধ্যেও খুশির জোয়ার দেখা দিয়েছে। তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি আরও জানান, রাজ্যে প্রথমবার পরিচালিত জাতিগত শুমারি এখন দেশের অন্যান্য রাজ্যের জন্য মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে সরকার ভবিষ্যতে আরও সমাজকল্যাণমূলক কাজ চালিয়ে যাবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
