শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা: চায়ের বিপণনে ই–কমার্স প্ল্যাটফর্ম (Tea Board E-commerce Platform) খুলতে চলেছে টি বোর্ড। যার পোশাকি নাম ‘ওয়েব বেসড টি অকশন প্ল্যাটফর্ম উইথ ই-কমার্স অপারেশন’। এই কাজটি করার জন্য বুধবার বোর্ডের তরফে অনলাইনে আগ্রহী এজেন্সিগুলির কাছ থেকে অনলাইনের টেন্ডার ডাকা হয়েছে। নতুন ওই প্ল্যাটফর্মের ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট, প্রয়োগ, তদারকি, ই-কমার্স অপারেশন, রিপোর্ট তৈরির মতো বিষয়গুলি যে এজেন্সি টেন্ডার পাবে তাকেই করে দিতে হবে।
টি বোর্ডের এই পরিকল্পনাকে মুক্ত কণ্ঠে স্বাগত জানাচ্ছে উত্তরবঙ্গের চা শিল্প মহল। বিশেষ করে ক্ষুদ্র চা চাষিরা। তাঁদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির ফ্যাক্টরিতে উৎপাদিত চা সহ ‘হ্যান্ড মেড টি’ নয়া অনলাইনের বিপণনের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের বাজারে বিক্রি হওয়ার পথ এতে সুগম হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ক্ষুদ্র চা চাষিদের সর্বভারতীয় সংগঠন কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের ( সিস্টা) সভাপতি ও জলপাইগুড়ি জেলা ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির সম্পাদক বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, ‘নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে। এই উদ্যোগ মূলত ক্ষুদ্র চা চাষিদের দিকে তাকিয়েই। এমন ভাবনা নিয়ে আমরা বোর্ডের শীর্ষ কর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম।’
ক্ষুদ্র চা চাষিদের স্বনির্ভর গোষ্ঠী পরিচালিত উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় চা ফ্যাক্টরি ময়নাগুড়ির জয় জল্পেশ স্মল টি গ্রোয়ার্স সোসাইটির সভাপতি রজত রায় কার্জির কথায়, ‘চা শিল্পের ভবিষ্যৎ এখন প্রত্যক্ষভাবে ক্ষুদ্র চাষকেন্দ্রিক। চাষিদের এমন ধরনের সুযোগসুবিধা আরও বেশি করে কাম্য। টি বোর্ডের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানাই।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি টি বোর্ডের কলকাতার কার্যালয়ে ডেপুটি চেয়ারম্যান সি মুরুগানের সঙ্গে উত্তরবঙ্গ তথা দেশের ক্ষুদ্র চাষিদের প্রতিনিধিদের একটি বৈঠক হয়। সেখানেই ই-প্ল্যাটফর্মের বিষয়টি উঠে আসে।
বর্তমানে উত্তরবঙ্গে (North Bengal Tea) ক্ষুদ্র চা চাষিদের ৫টি ফ্যাক্টরি রয়েছে। সবগুলিই জলপাইগুড়ি জেলায়। উত্তরে ক্ষুদ্র চা চাষিদের সংখ্যা ৫০ হাজার। চা চাষের আওতাধীন জমির পরিমাণ ৪০ হাজার হেক্টর। যে সমস্ত ক্ষুদ্র চা চাষির আলাদা কোনও ফ্যাক্টরি নেই তাঁদের অনেকে হাতে বা হ্যান্ড মেড টি তৈরিতে এগিয়ে এসেছেন। তাতে সিটিসি, অর্থডক্স সহ হোয়াইট, পার্পল-এর মতো বিশেষ ক্যাটিগোরির চা রয়েছে। সেসব নিজেদের উদ্যোগে কিছুটা বিক্রি হলেও বৃহত্তর পরিসরে সেই জায়গা এখনও নেই। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম শূন্যস্থান পূরণ করবে বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের।
