ওদলাবাড়ি: শারদীয়া উৎসবের আনন্দে যখন গোটা রাজ্য মেতে উঠেছে, ঠিক সেই ষষ্ঠীর সকালেই চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠল ডুয়ার্সের চা বলয় (Tea Backyard Bonus Protest)। সরকারি নির্দেশিকা মেনে ২০ শতাংশ হারে পুজোর বোনাস প্রদান এবং অগাস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া তিনটি পাক্ষিক মজুরির দাবিতে সরাসরি পথ অবরোধ আন্দোলনে নামলেন মাল ব্লকের বাগরাকোট চা বাগানের ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা।
বাগান কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বুধবার সকাল থেকে বাগরাকোটের মিনা মোড় সংলগ্ন ১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। এর জেরে শিলিগুড়ি-ডুয়ার্স সংযোগকারী মূল ১৭ নম্বর জাতীয় সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং শিলিগুড়ি-ডুয়ার্সমুখী সমস্ত যানবাহন পুরোপুরি থমকে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে মালবাজার থেকে শিলিগুড়িমুখী যানবাহন ওদলাবাড়ি থেকে গজলডোবা হয়ে ঘুরপথে চালানো শুরু করে পুলিশ ও প্রশাসন।
বাগরাকোট চা বাগানের শ্রমিকদের অভিযোগ, রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী ১৩ অক্টোবরের মধ্যে ২০% হারে বোনাস প্রদান করার কথা থাকলেও এখনো পর্যন্ত শ্রমিকের হাতে বোনাসের টাকা পৌঁছায়নি। শুধু তা-ই নয়, শ্রমিকদের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া তিনটি পাক্ষিক মজুরি এবং গত বছরের অবশিষ্ট ১০ শতাংশ বোনাসও এখনো বকেয়া পড়ে রয়েছে।
শ্রমিকদের দাবি, এর আগে গত ৭ অক্টোবর একই দাবিতে তাঁরা ১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেছিলেন। সেই সময় বাগান কর্তৃপক্ষ লিখিত আশ্বাস দিয়েছিল যে ১৩ অক্টোবরের মধ্যে সম্পূর্ণ ২০ শতাংশ বোনাস মিটিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেই কথা না রাখায় বৃহস্পতিবার দিনভর বাগানে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর ষষ্ঠীর সকালে বাধ্য হয়েই ফের সড়ক অবরোধে নামেন সাধারণ শ্রমিকরা।
ঘটনাস্থলে পৌঁছান স্থানীয় বিধায়ক শুক্রা মুন্ডা। তিনি ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন এবং তাঁদের আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান। বিধায়ক শুক্রা মুন্ডা বলেন, “চা বাগানের শ্রমিকদের এই আন্দোলন সম্পূর্ণ ন্যায্য। পুজোর মুখে চা বাগান কর্তৃপক্ষের এহেন টালবাহানা ও উদাসীনতা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। বিষয়টি আমি অবিলম্বে প্রশাসনের নির্দিষ্ট মহলে জানাচ্ছি।”
জাতীয় সড়ক অবরোধের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মালবাজার থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। তবে ষষ্ঠীর আনন্দের দিনেও ডুয়ার্সের চা বাগানগুলিতে বোনাস ও বকেয়া বেতন না মেটায় শ্রমিকদের ক্ষোভকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের আশঙ্কাজনক কালো মেঘ দানা বাঁধতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহল।

