Tea Backyard | ফের শঙ্কার মেঘ তিন চা বাগানে

Tea Backyard | ফের শঙ্কার মেঘ তিন চা বাগানে

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা: মজুরি বকেয়া। এমন অবস্থায় সংসার চলবে কীভাবে? এই কারণে কাজে যাওয়াই বন্ধ করে দিয়েছেন রেডব্যাংক, সুরেন্দ্রনগর ও ধরণীপুর চা বাগানের শ্রমিকরা (Tea Backyard)। শীতের শুখা মরশুমে সংকটের মুখে পড়ার আশঙ্কায় প্রমাদ গুনতে শুরু করেছেন সব মিলিয়ে কয়েকশো শ্রমিক। অনিশ্চিত জীবনযাপন থেকে বাঁচতে বহু শ্রমিক অন্য কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে শুরু করেছেন। দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপের দাবিতে সরব হয়েছেন তাঁরা। রেডব্যাংকের শ্রমিকদের একাংশ সোমবার বানারহাট বিডিও অফিস ঘেরাও করার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন। শ্রম দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, তিন বাগানের প্রতিই সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে। সমস্যা সমাধানের চেষ্টাও চলছে। ওই তিনটি বাগানের বর্তমান কর্ণধার ঋত্বিক ভট্টাচার্য অবশ্য আশ্বাস দিয়েছেন, রাজ্য সরকারের তৈরি করা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি)-এর  মাধ্যমে তিনটি বাগান চালানো হবে। এজন্য শ্রমসচিবের কাছে আবেদন করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরির কাজও চলছে। আশা করছি, আগামী সপ্তাহ থেকে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

পুজোর আগে বোনাস ইস্যুকে কেন্দ্র করে ধরণীপুর চা বাগানটি বন্ধ হয়। পরে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার মাধ্যমে ১৭ নভেম্বর থেকে ফের চালু হয়। সেখানকার শাসকদলের শ্রমিক সংগঠন তৃণমূল চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের ইউনিট সম্পাদক অনুপ ওরাওঁ বলেন, ‘শুধু বোনাসই নয়, বকেয়া রয়েছে মজুরির টাকাও। এমন অবস্থায় বাগানের শ্রমিকরা আমাদের এসে ধরছেন। তাঁদের যে কাজ চালিয়ে যেতে বলব, সেই ভরসা কোথায়? এককথায় অসহনীয় পরিস্থিতি। রেডব্যাংক ও লাগোয়া সুরেন্দ্রনগরের পরিস্থিতিও তথৈবচ। সেখানকার পরিচালকরা অবশ্য বাগান ছেড়ে যাননি। শ্রমিকরাই কাজে গরহাজির থাকছেন কিছুদিন ধরে।’ রেডব্যাংকের সুশীল সরকার নামে এক কর্মচারী বলেন, ‘আগের বকেয়া তো আছেই। খোলার পর ১৮ দিনের কাজের টাকাও শ্রমিকরা পাননি। ম্যানেজারের কাছে পাওনা নিয়ে জানতে চাইলে কোনও সদুত্তর মেলে না। মজুরিই যদি ঠিকঠাক না মেলে তবে কাজে যাওয়ার ইচ্ছে হবে কোথা থেকে? আগামী সোমবার শ্রমিকরা বিডিও অফিস ঘেরাও করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ এদিকে এখনও রেডব্যাংকে শীতের পরিচর্যার কাজ শুরু না হওয়ায় আগামীতে উৎপাদনের কী হবে, সংশয় তৈরি হয়েছে তা নিয়েও।

মিচেল ওরাওঁ নামে রেডব্যাংকের এক নৈশপ্রহরী বলেন, ‘পুরোনো সময়ের ছয় মাসের বেতন বাকি। এখন বকেয়া রয়েছে ২ মাসের। তবুও বাগানের স্বার্থে অফিস পাহারার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদেরও তো পেট আছে। এভাবে কতদিন?’ সুরেন্দ্রনগর চা বাগানের জুলফে বিশ্বকর্মা নামে এক শ্রমিক নেতার কথায়, ‘এখন শীতের মরশুম। আশপাশের অন্য বাগানেও অস্থায়ী বা বিঘাশ্রমিকের কাজ মিলছে না। এভাবে আর কয়েকদিন চললেই ঘরে ঘরে অনটন তৈরি হবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *