উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ ফের অস্থিরতার ছায়া ওপার বাংলায়। কট্টরপন্থী ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে ঘিরে বৃহস্পতিবার রাত থেকে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি হয় দেশজুড়ে। বাংলাদেশের জেলায় জেলায় শুরু হয়েছে ব্যাপক হিংসা ও অরাজকতা। বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা। পরিস্থিতি দেখে অনেকেরই মনে পড়ছে গত বছরের ৫ অগস্টের ভয়াবহ রাতের কথা।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থাকে ‘জিহাদিস্তান’ বলে উল্লেখ করেছেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি লেখেন, একজন ‘জিহাদির’ মৃত্যুর পরেই গোটা দেশে তাণ্ডব নেমেছে।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে ঢামেক, পরে এভারকেয়ার হাসপাতাল হয়ে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঢাকার রাস্তায় শুরু হয় উত্তেজনা, স্লোগান ওঠে—‘আমিও হাদি হব’।
এদিকে বৃহস্পতিবার ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে দেহে আগুন লাগানোর ঘটনাও দেশজুড়ে শোরগোল ফেলেছে। অভিযোগ, ধর্ম অবমাননার সন্দেহে উত্তেজিত জনতা তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে। যদিও অভিযোগের সত্যতা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তসলিমা লেখেন, ‘এটাই জিহাদিস্তানের আসল চেহারা’, এবং সংখ্যালঘুদের উপর চলা সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানান।
অন্যদিকে, হাদির মৃত্যুর পর ঢাকার ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক বাড়িতে ফের হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকার অফিসেও ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তাজনিত কারণে শুক্রবার ওই দুই পত্রিকা ছাপা হয়নি।
সব মিলিয়ে, হাদি মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিরতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিকে নতুন করে সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
