মণিশংকর ঠাকুর, তপন: আবাস যোজনার টাকা হাতে এলেও বালির (Tapan Sand Disaster) জন্য আটকে রয়েছে বহু পরিবারের বাড়ি তৈরির কাজ। যদিও তপন (Tapan) ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় পুনর্ভবা নদীর বালি মজুত রয়েছে এবং সেই বালি টেন্ডারের মাধ্যমে নিলামও হয়ে গিয়েছে। কিন্তু প্রশাসনিক কাগজপত্র সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এখনও সেই বালি বাড়ি নির্মাণকারীদের কাছে সরবরাহ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। এদিকে বাজার থেকে বিকল্প বালি কিনতে গেলে চড়া দাম দিতে হচ্ছে। এক ট্র্যাক্টর বালির দাম প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। এতে আবাস যোজনার বরাদ্দ অর্থের বড় অংশ বালি কিনতেই খরচ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন উপভোক্তারা।
উপভোক্তা পরিবারের সদস্য শিবেন বর্মন বলেন, ‘আবাস যোজনার (Awas Yojana) টাকা পেয়েছি। কিন্তু বালির সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় বাড়ির কাজ শুরু করতে পারছি না। বাজার থেকে চড়া দামে বালি কিনলে বরাদ্দের বেশিরভাগ টাকাই সেখানে চলে যাবে। প্রশাসনের তরফে দ্রুত একটা সুরাহা হলে আমরা উপকৃত হব।’ স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তপন ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় পুনর্ভবা নদীর মজুত ধুস বালি চিহ্নিত করে সম্প্রতি কিছু অংশ টেন্ডারের মাধ্যমে নিলাম করা হয়েছে। এই অবস্থায় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পূর্ণ করে নিলাম হওয়া বালি বাড়ি নির্মাণকারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দাবি উঠেছে। টেন্ডারে স্টক বালি নেওয়া ব্যবসায়ী উৎপল দাস বলেন, ‘সরকারকে রাজস্ব দিয়ে নিয়ম মেনেই আমরা টেন্ডারে স্টক বালি নিয়েছি। কিন্তু এখনও সেই বালি যাঁদের বাড়ি তৈরি করার জন্য প্রয়োজন, তাদের কাছে সরবরাহ করতে পারছি না। প্রশাসনিক প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পূর্ণ হলে আমরা বালি সরবরাহ করতে পারব।’
বালি সরবরাহে এই জটিলতার প্রভাব পড়েছে নির্মাণসামগ্রীর ব্যবসাতেও। এক নির্মাণসামগ্রী ব্যবসায়ী জানান, বালির সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় তাদের ব্যবসায়ও প্রভাব পড়েছে। বালি সরবরাহ চালু হলে বাড়ি নির্মাণের কাজ বাড়বে এবং ব্যবসাও স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন তিনি।
এদিকে, তপন ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক বিপ্লবকুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, প্রায় ১ লক্ষ ৩২ হাজার সিএফটি পরিমাণ বালি টেন্ডার করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হবে এবং বালির সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশ্বাস তাঁর।

