উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: তাজমহল: চোখের ধোঁকা নাকি আর্কিটেকচারাল ম্যাজিক?
আমরা যখনই তাজমহলের কথা বলি, শাহজাহান ও মমতাজের অমর প্রেমের কথা সবার আগে মনে আসে। কিন্তু আপনি কি জানেন, ভালোবাসার এই স্মৃতিস্তম্ভটি আসলে বিজ্ঞানের এক চরম বিস্ময়? তাজমহলের (Taj Mahal) পরতে পরতে লুকিয়ে আছে এমন কিছু ইঞ্জিনিয়ারিং কৌশল বা ‘অপটিক্যাল ইলিউশন’, যা ৪০০ বছর আগের প্রযুক্তিতে ভাবাই অসম্ভব ছিল!
আসুন জেনে নিই তাজমহলের এমন কিছু ‘অফবিট’ দিক, যা গাইডরা সচরাচর বলেন না।
*১. মিনারগুলো সোজা নয়, বাঁকানো!
তাজমহলের প্রধান গম্বুজের চারপাশের চারটি মিনার লক্ষ্য করেছেন? আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় এগুলো একদম সোজা দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, চারটি মিনারই সামান্য বাইরের দিকে হেলানো।
কেন এমনটা করা হয়েছিল? এর পেছনে আছে এক জবরদস্ত ভূমিকম্প-প্রতিরোধী কৌশল। যদি কখনো ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়, তবে মিনারগুলো যেন বাইরের দিকে পড়ে যায় এবং মূল গম্বুজের (যেখানে মমতাজ ও শাহজাহানের কবর রয়েছে) কোনো ক্ষতি না হয়। স্থপতিরা কতটা দূরদর্শী ছিলেন, ভাবা যায়?
*২. যমুনা নদী না থাকলে তাজমহল ভেঙে পড়ত!
শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি। এত বিশাল মার্বেলের ইমারতের ভিত্তি বা ফাউন্ডেশন কিন্তু পাথরের নয়, কাঠের! আবলুস (Ebony) কাঠের তৈরি বিশাল কুয়োর ওপর দাঁড়িয়ে আছে তাজমহল।
আমরা জানি কাঠ সাধারণত পচে যায় বা উইপোকায় খায়। কিন্তু এই বিশেষ কাঠটির বৈশিষ্ট্য হলো, এটি যত বেশি আর্দ্রতা বা জল পাবে, তত বেশি শক্ত হবে। যমুনা নদীর জল এই কাঠের ভিতকে ৪০০ বছর ধরে সজীব ও মজবুত রেখেছে। যমুনা শুকিয়ে গেলে তাজমহলের অস্তিত্বও বিপন্ন হতে পারে।
*৩. ক্যালিগ্রাফির চোখের ধাঁধা (Optical Phantasm)
তাজমহলের গায়ে যে কুরআনের আয়াতগুলো খোদাই করা আছে, সেখানেও রয়েছে এক অদ্ভুত জ্যামিতিক খেলা। আপনি যদি নীচ থেকে উপরের দিকে তাকান, তবে মনে হবে সবগুলি অক্ষরের আকার সমান।
কিন্তু বাস্তবে, নীচের অক্ষরগুলির তুলনায় উপরের অক্ষরগুলি অনেক বড় করে লেখা হয়েছে। মানুষের চোখের ‘পার্সপেক্টিভ’ বা দৃষ্টিভ্রমকে মাথায় রেখে এই ডিজাইন করা হয়েছিল, যাতে নীচ থেকে দেখলে পুরো লেখাটি সুষম মনে হয়।
*৪. রং বদলানোর খেলা
তাজমহলকে বলা হয় ‘মুড রিং’ (Temper Ring)। দিনের বিভিন্ন সময়ে এর রং বদলায়। ভোরের আলোয় এটি হালকা গোলাপি, দুপুরে ধবধবে সাদা, আর পূর্ণিমা রাতে সোনালি-রুপালি আভা ছড়ায়। কবিরা বলেন, এটি নাকি নারীর পরিবর্তনশীল মেজাজের প্রতীক! তবে বৈজ্ঞানিকভাবে, মার্বেলের ওপর সূর্যের আলোর প্রতিফলনের কারণেই এই জাদুকরী রঙের খেলা দেখা যায়।
*শেষ কথা*
তাই পরের বার যখন তাজমহলে যাবেন, তখন শুধু ছবি তুলে বা প্রেমের গল্প শুনেই ফিরে আসবেন না। স্থপতি ওস্তাদ আহমেদ লাহোরির এই জাদুকরী নির্মাণশৈলীকে একটু গভীরভাবে দেখার চেষ্টা করবেন। দেখবেন, সাদা পাথরের এই সমাধিটি আপনার কাছে এক নতুন বিস্ময় নিয়ে ধরা দিচ্ছে।
