উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আহমেদাবাদের মন্থর উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানের বড় হারের ধাক্কা এখনও কাটেনি। সেমিফাইনালের সমীকরণ মেলাতে হলে হাতে থাকা বাকি দুটি ম্যাচই জিততে হবে ভারতকে। এমন মরণ-বাঁচন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ের চিপক স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হচ্ছে টিম ইন্ডিয়া। তবে ভারতীয় সমর্থকদের জন্য সুখবর হলো— চেন্নাইয়ের ২২ গজ এবার আর ব্যাটারদের জন্য ‘বিভীষিকা’ হয়ে দাঁড়াচ্ছে না।
নতুন সাজে চিপক: বদলে গেছে পিচের চরিত্র
চেন্নাইয়ের এমএ চিদম্বরম স্টেডিয়াম মানেই সাধারণত ধীরগতির উইকেট আর স্পিনারদের দাপট। মহেন্দ্র সিং ধোনির চেন্নাই সুপার কিংস এই মন্থর পিচকে অস্ত্র করেই বারবার সাফল্য পেয়েছে। কিন্তু বিশ্বকাপের আগে আমূল বদলে ফেলা হয়েছে এই মাঠের পিচ। কিউরেটরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাস বড় কোনো ম্যাচ না হওয়ায় উইকেট এখন বেশ ‘তাজা’ ও ‘পাটা’।
পিচের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হল:
• ব্যাটারদের স্বর্গরাজ্য: বল ব্যাটে আসবে সমান বাউন্সে, যা ভারতীয় ব্যাটারদের সহজাত পছন্দের।
• স্পিনারদের কম সুবিধা: চিরাচরিত চিপকের মতো স্পিনাররা এখানে অতিরিক্ত টার্ন পাবেন না।
• হাই-স্কোরিং ম্যাচ: এই বিশ্বকাপেই এখানে নিউজিল্যান্ড বড় রান অনায়াসেই তাড়া করে জিতেছে।
পরিসংখ্যান কী বলছে?
চলতি বিশ্বকাপে চিপকের উইকেটে রান উৎসবের ইঙ্গিত স্পষ্ট। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ১৮২ রান নিউজিল্যান্ড তাড়া করে জিতেছিল মাত্র ১৭.৫ ওভারে। এমনকি কানাডার বিরুদ্ধেও ১৭৬ রান তাড়া করতে কিউইরা সময় নিয়েছিল মাত্র ১৫.১ ওভার। কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার স্পষ্টই জানিয়েছেন, চিপকের বর্তমান উইকেট পুরোপুরি ব্যাটিং সহায়ক বা ‘পাটা’।
জিম্বাবুয়ে বধের পরিকল্পনা
সিকান্দার রাজা কিংবা ব্লেসিং মুজারাবানিদের জন্য এই উইকেটে ভারতকে আটকানো কঠিন চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে। আহমেদাবাদের কালো মাটির মন্থর পিচে ভারত খেই হারিয়েছিল, কিন্তু চিপকের এই নতুন উইকেট সূর্যকুমার যাদব বা রোহিত শর্মাদের ফর্মে ফেরার সেরা মঞ্চ হতে পারে। কিউরেটর নিশ্চিত করেছেন, ভারত-জিম্বাবুয়ে ম্যাচের জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি উইকেট ব্যবহার করা হবে, যেখানে বোলারদের জন্য বাড়তি কোনো সুবিধা থাকবে না।
