উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ ফুটবল যে কতটা শৈল্পিক ও নিখুঁত হতে পারে, তা আবারও প্রমাণ করলেন কিলিয়ান এমবাপে এবং মাইকেল ওলিসেরা। নকআউট পর্বের ফ্রান্স মানেই যেন এক অপরাজেয় শক্তি। সুইডেনের বিরুদ্ধে প্রাক-কোয়ার্টার ফাইনালে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় তুলে নিয়ে দিদিয়ের দেশঁর ফ্রান্স বুঝিয়ে দিল, বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে তারাই এখন সবার চেয়ে এগিয়ে (Sweden vs France)।
সুইডেন ম্যাচে ফ্রান্সের পারফরম্যান্স ছিল যেন এক সুশৃঙ্খল কম্পিউটার প্রোগ্রামিং। রক্ষণ, মাঝমাঠ এবং আক্রমণ—প্রতিটি বিভাগেই ফরাসি ফুটবলাররা ছিলেন তেল দেওয়া মেশিনের মতো সচল। ছোট-বড় নিখুঁত পাস, ক্ষিপ্র গতিতে জায়গা পরিবর্তন এবং প্রতিপক্ষকে বোকা বানিয়ে সঠিক সতীর্থকে খুঁজে নেওয়ার দক্ষতা ছিল দেখার মতো। মাঠে ফ্রান্সের আধিপত্য এতটাই নিরঙ্কুশ ছিল যে, সুইডেন তাদের সাধ্যমতো লড়াই করলেও ফরাসিদের গতির কাছে বারবার খেই হারিয়েছে।
এই ম্যাচের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন মাইকেল ওলিসে। গোল না পেলেও পুরো মাঠ জুড়ে ছিল তাঁর দাপট। খেলার পরিকল্পনা থেকে শুরু করে নিখুঁত পাস বাড়ানো—সবটাতেই তিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। বিশ্বকাপে পাঁচটি অ্যাসিস্ট করে এখন তিনি তালিকার শীর্ষে, যা তাঁকে দেশঁর দলের সত্যিকারের ‘ব্যান্ড মাস্টার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
অন্যদিকে, অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি বর্তমান বিশ্বের সেরা। জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোল সংখ্যা নিয়ে গেলেন ১৮-তে। চলতি বিশ্বকাপে মেসির ৬ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসালেন তিনি। শুধু তাই নয়, নকআউট পর্বে ১০ গোল করার অনন্য রেকর্ডও এখন তাঁর দখলে।
ফ্রান্সের শুরুটা ছিল উড়ন্ত, কিন্তু গোল পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৪৫ মিনিট পর্যন্ত। ২০ মিনিটে অফসাইডের কারণে এমবাপের গোল বাতিল হয়, ৩২ ও ৩৬ মিনিটে দুর্ভাগ্যবশত বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে। অবশেষে ৪৫ মিনিটে উসমান ডেম্বেলের পাস থেকে জোরালো শটে ডেডলক ভাঙেন এমবাপে। ৫৩ মিনিটে ওলিসের পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্র্যাডলি বার্কোলা। এরপর ৭৪ মিনিটে ওলিসের ডিফেন্স চেরা পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ৩-০ ব্যবধান নিশ্চিত করেন এমবাপে।
সুইডেনের বিরুদ্ধে এই জয় ফ্রান্সকে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে নিয়ে গেছে। ৮৫ মিনিটে এমবাপেকে তুলে নেওয়ার মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়েছে ম্যাচের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ কতটা ছিল। এখন কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানিকে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করা প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত ফ্রান্স।
বিশ্বকাপ জয়ের এই মিশনে ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলগুলোর জন্য ফ্রান্স যে এক বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে, তা আজ আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ফুটবল প্রেমীরা এখন মেসি-এমবাপের সেই সম্ভাব্য ফাইনাল লড়াইয়ের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

