উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আজ ১২ই জানুয়ারি, ভারতমাতার সুযোগ্য সন্তান স্বামী বিবেকানন্দের (Swami Vivekananda) জন্মতিথি। ১৮৬৩ সালের এই দিনে কলকাতার সিমলা স্ট্রিটের দত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া নরেন্দ্রনাথ থেকে বিশ্বজয়ী ‘স্বামী বিবেকানন্দ’ হয়ে ওঠার কাহিনী কেবল এক সাধকের জীবনী নয় (Inspiration of Vivekananda), বরং এক জাতির আত্মিক পুনর্জাগরণের ইতিহাস। প্রতি বছর এই দিনটিকে ভারতে ‘জাতীয় যুব দিবস’ (Nationwide Youth Day) হিসেবে পালন করা হয়।
নরেন্দ্রনাথ থেকে বিবেকানন্দ: বাল্যকাল থেকেই তীক্ষ্ণ মেধা এবং সত্যের সন্ধানে ব্যাকুল নরেন্দ্রনাথের জীবনে আমূল পরিবর্তন আসে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের সান্নিধ্যে। দক্ষিণেশ্বরের সেই মহাজীবনের স্পর্শে এসে তিনি উপলব্ধি করেন— ‘জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।’ শ্রীরামকৃষ্ণের মহাপ্রয়াণের পর ভারত পরিভ্রমণে বেরিয়ে তিনি দেখেন সাধারণ মানুষের দারিদ্র্য ও অবমাননা। কন্যাকুমারীর সমুদ্রতীরে ধ্যানমগ্ন হয়ে তিনি সঙ্কল্প করেন ভারতাত্মার পুনর্গঠনের।
শিকাগো ধর্মমহাসভা ও বিশ্বজয়: ১৮৯৩ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর শিকাগোর বিশ্ব ধর্মমহাসভায় তাঁর ঐতিহাসিক বক্তৃতা ভারতকে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। তাঁর ভাষণের প্রথম সম্বোধন— “আমেরিকার ভাই ও বোনেরা” শুনেই সভার সাত হাজার মানুষ দাঁড়িয়ে করতালিতে তাঁকে অভিবাদন জানান। প্রাচ্যের আধ্যাত্মিকতা ও পাশ্চাত্যের বিজ্ঞানের মেলবন্ধন ঘটিয়ে তিনি প্রমাণ করেন যে, হিন্দুধর্ম সংকীর্ণতা নয়, বরং এক শাশ্বত উদারতার নাম।
আধুনিক মনন ও যুবশক্তি: বিবেকানন্দ বিশ্বাস করতেন, একটি জাতির মেরুদণ্ড হলো তার যুবশক্তি। তিনি চেয়েছিলেন ‘পেশিবহুল লৌহ ও স্নায়ুবৎ ইস্পাত’-এর মতো দৃঢ় মানসিকতার যুবসমাজ। তাঁর মন্ত্র ছিল— “উত্তিষ্ঠত জাগ্রত প্রাপ্য বরান নিবোধত” (ওঠো, জাগো এবং লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত থেমো না)। তিনি শিক্ষার লক্ষ্য হিসেবে বলেছিলেন ‘মানুষ তৈরির শিক্ষা’। তাঁর হাতে গড়া ‘রামকৃষ্ণ মিশন’ আজও আর্তের সেবা ও ত্যাগের আদর্শে অবিচল।
বর্তমান সময়ে প্রাসঙ্গিকতা: আজকের অস্থির সময়ে বিবেকানন্দের আদর্শ আরও বেশি প্রয়োজন। তিনি ধর্মকে মন্দিরে নয়, মানুষের সেবায় দেখেছিলেন। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে ভালোবাসার যে বার্তা তিনি দিয়েছিলেন, তা আধুনিক ভারতের ঐক্যের প্রধান স্তম্ভ। মাত্র ৩৯ বছরের ছোট জীবনে তিনি যে আধ্যাত্মিক তেজ সঞ্চার করেছিলেন, তা আজও কোটি কোটি তরুণের পথচলার প্রধান পাথেয়।
