উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রাজনীতির ময়দানে দলবদল নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেই দলবদলের ইতিহাস কতদিন বয়ে বেড়াতে হয়? বৃহস্পতিবার অটলবিহারী বাজপেয়ীর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে জাতীয় গ্রন্থাগারের অনুষ্ঠানে (Nationwide Library Even) শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ‘অতীত-চর্চা’ নিয়ে এমনই এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হল গেরুয়া শিবিরের অন্দরে। শুভেন্দুর পুরনো দল ত্যাগের ইতিহাসকে সরাসরি ‘অতীত’ বলে মনে করিয়ে দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)।
জাতীয় গ্রন্থাগারের ‘সুশাসন’ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সুনীল বনসল, সুকান্ত মজুমদার, রাহুল সিনহার মতো কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব। সেখানেই নিজের ভাষণে শুভেন্দু অধিকারী ব্যাখ্যা দিচ্ছিলেন কেন এবং কীভাবে তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে এসেছিলেন।
শুভেন্দু তাঁর ভাষণে দলবদলকারীদের তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করেন। ১. যারা ভোটের সময় এসে টিকিট নিয়ে জিতে পালায় বা হেরে ফিরে যায়। ২. যারা অন্য দলে কোণঠাসা হয়ে আশ্রয়ের খোঁজে আসে। ৩. যারা স্বেচ্ছায় সব পদ ছেড়ে আদর্শের টানে আসে।
শুভেন্দু নিজেকে তৃতীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করে বলেন, “আমি ৫টি দপ্তর এবং ৩টি ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে অমিত শাহ ও দিলীপ ঘোষদের আমন্ত্রণে বিজেপিতে এসেছি। অনেকে পালিয়েছে, শুভেন্দু অধিকারী পালানোর লোক নয়।”
শুভেন্দুর এই বক্তব্যের ঠিক পরেই মঞ্চে ওঠেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি সরাসরি শুভেন্দুর দিকে তাকিয়ে বলেন, “আমার আগে বক্তৃতায় শুভেন্দু বলেছেন, দপ্তর ছেড়ে এসেছেন, আমন্ত্রণে এসেছেন। এগুলো সব অতীত। আমি আমার অনুজপ্রতীমের কাছে আবেদন করব, ভবিষ্যতের কোনও মিটিংয়ে তিনি যেন আর এটা না বলেন। কারণ, তিনি এখন বিজেপিতে সম্পূর্ণ সম্পৃক্ত হয়ে গিয়েছেন।”
শমীকের এই মন্তব্যের পরেই প্রেক্ষাগৃহ করতালিতে ফেটে পড়ে। বিজেপির পুরনো নেতা-কর্মীদের একাংশের মতে, শমীক আসলে শুভেন্দুর আগামী দিনের ভাষণের ‘লক্ষ্মণগণ্ডি’ টেনে দিলেন।
শমীকের মন্তব্যে কেবল শুভেন্দুর প্রতি বার্তাই ছিল না, ছিল পুরনো কর্মীদের জন্য আবেগও। তিনি বলেন, “আগে একটা গাড়ি ছিল, ৬ জন চড়তেন। তখন কেউ পদ বা লোভের জন্য বিজেপি করতেন না।” শমীকের এই মন্তব্য এখন রাজনৈতিক মহলে জল্পনা উসকে দিয়েছে— তবে কি পরোক্ষভাবে নব্য বিজেপি নেতাদের ‘পদ’ বা ‘লোভে’র দিকেই ইঙ্গিত করলেন রাজ্য সভাপতি?
এই ঘটনার পর শুভেন্দু বা শমীক কেউই সংবাদমাধ্যমের কাছে আর মুখ খোলেননি। তবে বিজেপির অন্দরে এই ‘অতীত বনাম বর্তমান’ বিতর্ক যে নতুন মাত্রা পেল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
