উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : “পশ্চিমবঙ্গে মেধার অভাব নেই। আমরা চাই বাংলার সেই মেধা এ রাজ্যেই থাকুক, বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দিক।” সোমবার কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে রাজ্যের কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা সভায় যোগ দিয়ে এই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রাজ্য স্কুলশিক্ষা দফতরের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, মাদ্রাসা বোর্ড সহ সিবিএসই (CBSE) এবং আইসিএসই (ICSE) বোর্ডের কৃতী পড়ুয়াদের (Madhyamik Uccha Madhyamik Toppers) ল্যাপটপ ও শংসাপত্র দিয়ে সম্মানিত করা হয়।
চলতি মাসের ৮ তারিখে মাধ্যমিক এবং ১৪ তারিখে উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশ হয়েছিল। উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশের দিনই প্রথম স্থানাধিকারী আদৃত পালের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলে সংবর্ধনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে ধনধান্য অডিটোরিয়ামে কৃতীদের সামনে স্বামী বিবেকানন্দের বাণী উদ্ধৃত করে প্রকৃত শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিনের অনুষ্ঠানটি রাজ্যের শিক্ষানীতিতে এক বড়সড় পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল। ঘটনাচক্রে, সোমবার সকালেই রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ঘোষণা করেন যে, তথ্য ও সংস্কৃতি এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের অধীনে থাকা ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে দেওয়া সমস্ত আর্থিক সহায়তামূলক প্রকল্প বন্ধ করা হচ্ছে।
তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংবর্ধনা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, মেধার ভিত্তিতে সমস্ত পড়ুয়াকে সমান সুযোগ দিতে এবার থেকে রাজ্যে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে চালু হতে চলেছে ‘বিবেকানন্দ মেরিটস স্কলারশিপ যোজনা’ (Vivekananda Scholarship)।
নিজের বক্তৃতায় মুখ্যমন্ত্রী ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আদর্শ অনুসরণ করে ‘নারীশিক্ষায় বিশেষ অগ্রাধিকার’ এবং দেশের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি ও শিক্ষাবিদ ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের ‘শিক্ষার মার্গদর্শন’ নীতিকে তুলে ধরেন। উপস্থিত ডিজিটাল প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তাঁর বিশেষ পরামর্শ, “তোমরা স্মার্টফোন ব্যবহার করো, কিন্তু তার ভালো দিকটা নাও। মাঝে মাঝে স্মার্টফোনে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এ পি জে আব্দুল কালামের অনুপ্রেরণামূলক বক্তৃতা এবং পড়ুয়াদের সঙ্গে তাঁর আলাপচারিতাগুলি শোনো।”
এদিনের মঞ্চ থেকে রাজ্যের বেসরকারি স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির লাগামছাড়া ফি বৃদ্ধি (Non-public Faculties Payment Hike) নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। সাফ বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “অর্থ বা ফি গ্রহণের ক্ষেত্রে এমন কোনো নীতি নেবেন না যাতে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে যায় এবং সরকারকে বিব্রত হতে হয়।” একই সঙ্গে পড়ুয়াদের খাতা মূল্যায়ন বা ইন্টারনাল অ্যাসেসমেন্টের ক্ষেত্রে বেসরকারি স্কুলগুলিকে আরও যত্নবান ও সংবেদনশীল হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
