উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে (WB Meeting Election 2026) বাংলার হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরে লড়াইয়ের উত্তাপ চরমে। বৃহস্পতিবার রামনবমীর (Ram Navami) পুণ্যলগ্নে নিজের নির্বাচনি ক্ষেত্রে রীতিমতো ‘গেরুয়া উৎসব’ পালন করলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মাথায় গেরুয়া পাগড়ি, গলায় জয় শ্রীরাম স্লোগান আর খোল-করতালের শব্দে এদিন যদুবাবুর বাজার চত্বর কার্যত উৎসবের মেজাজ নিল।
যদুবাবুর বাজারের অজন্তা ধাবা থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। রাস্তার দু’পাশের বাড়ির বারান্দা থেকে উৎসাহী মানুষের ভিড় দেখে মাঝেমধ্যেই মেজাজ বদলাতে দেখা যায় বিরোধী দলনেতাকে। জনসংযোগ বাড়াতে মিছিল ছেড়ে মাঝপথেই ঢুকে পড়েন একাধিক বাড়িতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হোম গ্রাউন্ড’-এ দাঁড়িয়ে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়ার পাশাপাশি হিন্দু ভোটের মেরুকরণ ঘটানোই শুভেন্দুর মূল রণকৌশল।
মিছিল চলাকালীন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বাংলায় এবার রাম রাজ্য প্রতিষ্ঠা হবে। আমাদের লক্ষ্য— হাতে কাজ, পেটে ভাত আর মাথায় ছাদ। বাংলার যুবক-যুবতীদের আর পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে ভিন রাজ্যে যেতে হবে না। নিশ্চিত হবে নারী সুরক্ষা।”
অন্যদিকে, শুভেন্দুর এই সক্রিয়তাকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল শিবির। শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষের সুরে বলেন, “শুভেন্দু হনুমানের মতো এদিক-ওদিক লাফাচ্ছে।” তৃণমূলের দাবি, গত উপ-নির্বাচনে দিদি যেখানে ৫৮ হাজার ভোটে জিতেছিলেন, এবার সেই ব্যবধান ৬০ হাজার পার করবে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিপূর্বেই কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন ভবানীপুরকে কলকাতার মধ্যে ‘ফার্স্ট’ করতে হবে।
শুভেন্দু যখন কলকাতার রাস্তায় ঝড় তুলছেন, মুখ্যমন্ত্রী তখন ব্যস্ত পাণ্ডবেশ্বর ও দুবরাজপুরের নির্বাচনি সভায়। তবে নেত্রী উপস্থিত না থাকলেও তাঁর ‘ঘর’ আগলে রেখেছেন তৃণমূল কর্মীরা। সব মিলিয়ে, রামনবমীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে ভবানীপুর যে এবারের নির্বাচনের ‘এপিসেন্টার’, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো।
