উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ শারদোৎসবের আনন্দময় চার দিনের উদযাপন শেষে এবার দেবী উমার মর্ত্য ছাড়ার পালা (Suvendu Adhikari)। বিজয়া দশমীর সকাল থেকেই কলকাতা সহ সমগ্র রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জন পর্ব। পুজো মণ্ডপের ভিড় সামলানোর পর বিসর্জন পর্ব যাতে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তার জন্য প্রশাসন জোরদার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। গঙ্গা ও বিভিন্ন জলাশয়ে নজরদারি চালাতে মাঠে নামানো হয়েছে অভিজ্ঞ পুলিশ বাহিনীকে। বিসর্জন প্রক্রিয়া তদারকির দায়িত্বে সরাসরি মোতায়েন করা হয়েছে ১৮ জন সিনিয়র আইপিএস অফিসারকে, যার মধ্যে শুধুমাত্র কলকাতার গঙ্গাবক্ষ ও বিভিন্ন ঘাটের দায়িত্বে রয়েছেন ১২ জন অফিসার (Babughat Immersion)।
প্রতিমা নিরঞ্জনের তদারকি এবং গঙ্গাপাড়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্বচক্ষে খতিয়ে দেখতে বুধবার সকালে সরাসরি বাবুঘাটে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং পুর-কমিশনার। গঙ্গার ঘাটগুলিতে নিরাপত্তা ও সাফাই অভিযান নিয়ে উচ্চপদস্থ পুলিশকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি।
গঙ্গার ঘাটে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বড় ঘোষণা করে জানান, “এবার আর যান্ত্রিক ক্রেন দিয়ে নয়, সনাতনী সংস্কৃতি ও প্রাচীন রীতি মেনে কাঁধে করে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে। সনাতন ধর্ম পালন করেন এবং ঐতিহ্যকে শ্রদ্ধা জানান, কেবল তারাই প্রতিমায় হাত দিতে পারবেন।”
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, গঙ্গায়যাতে কোনো অপ্রীতিকর দুর্ঘটনা না ঘটে, তার জন্য এনডিআরএফ (NDRF) টিম মোতায়েন থাকছে। পাশাপাশি, বিসর্জন পর্বের পর পরিবেশ রক্ষায় ২৪ তারিখের পর থেকে বিশেষ সাফাই অভিযান চালাবে পুরসভা।
কলকাতার পাশাপাশি এদিন হাওড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ গঙ্গাধাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে সীমান্ত শহর টাকির ইছামতী নদীর ঐতিহাসিক বিসর্জন নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। ইছামতীতে প্রতিবছর প্রায় ২০০টি নৌকায় চড়ে পুণ্যার্থীরা ভাসানে অংশ নেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইছামতীতে সমস্ত নৌকায় লাইফ জ্যাকেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সেখানে নজরদারির জন্য একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রী এবং ডিআইজি (বারাসত রেঞ্জ) উপস্থিত থাকবেন।
কলকাতার চোরবাগান মণ্ডপের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির প্রতি মুখ্যমন্ত্রী গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। মহানবমীর দিন একাধিক পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর, দশমীর দিনও নিউ ব্যারাকপুর থেকে নিউটাউন পর্যন্ত প্রায় ৬-৭টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে সশরীরে পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ২৪ তারিখের মধ্যে চোরবাগান ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করে তাঁদের পাশে দাঁড়াবে সরকার।

