শিলিগুড়ি: “পাহাড় তথা উত্তরবঙ্গই প্রথম বিজেপিকে জায়গা করে দিয়েছে। বাংলাকে বাঁচানোর জন্য আপনাদের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। উন্নয়নের মাধ্যমে আমরা উত্তরবঙ্গের সেই ঋণ শোধ করব।”— বাগডোগরা বিমানবন্দরে পা রেখেই উত্তরবঙ্গবাসীর উদ্দেশ্যে এই বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। উত্তরবঙ্গে পা রাখতেই তাঁকে স্বাগত জানাতে এদিন বিমানবন্দর চত্বরে কর্মী-সমর্থকদের পক্ষ থেকে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছিল। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, সাংসদ রাজু বিস্ট।
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর উত্তরবঙ্গের মাটিতে এটাই প্রথম হাইপ্রোফাইল প্রশাসনিক বৈঠক। আর সেই বৈঠককে ঘিরেই সেজে উঠেছে ‘উত্তরকন্যা’ (Uttar Kanya)। উত্তরবঙ্গে পৌঁছেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সংকল্পপত্রে থাকা সমস্ত প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করা হবে। উত্তরবঙ্গের মানুষ যে স্বপ্ন দেখেছেন, বিজেপি তা বাস্তবায়িত করবে। দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত থাকা এই অঞ্চলের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ এবার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে করবে নতুন সরকার।
প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে এদিন এক ঐতিহাসিক ঘোষণা করা হয়েছে। এবার থেকে প্রত্যেক মাসে রাজ্য মন্ত্রীসভা উত্তরবঙ্গের মানুষের দুয়ারে পৌঁছে যাবে। শুধু তা-ই নয়, উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী প্রত্যেক সপ্তাহে অন্তত একদিন উত্তরকন্যায় বসে দপ্তরের কাজ পরিচালনা করবেন বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।
শিলিগুড়ির (Siliguri) উত্তরকন্যায় আয়োজিত এই প্রথম প্রশাসনিক বৈঠককে কেন্দ্র করে গোটা উত্তরবঙ্গজুড়ে ব্যাপক তৎপরতা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের বকেয়া উন্নয়নমূলক কাজ ত্বরান্বিত করা এবং পাহাড় ও সমতলের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করাই এখন নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য। একদিকে বিমানবন্দরে শুভেন্দুর মেগা এন্ট্রি, অন্যদিকে উত্তরকন্যায় প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক থেকে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা— সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অলিন্দে এখন এক নতুন ভোরের সূচনা।
