Surjit Bhalla voter deletions | এসআইআর বিতর্ক, ১৩ কোটি নাম বাদ পড়লেও অহেতুক বাদ মাত্র ৭০ লক্ষ! কী জানালেন অর্থনীতিবিদ সুরজিৎ ভাল্লা?

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে ১৩ কোটি ভোটারের নাম ছাঁটাইয়ের খবর নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। তবে প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ সুরজিৎ ভাল্লার (Surjit Bhalla voter deletions) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান নির্ভর বিশ্লেষণ রাজনীতিতে সম্পূর্ণ এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি হাজির করেছে। ১৬ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত ব্লগে ভাল্লা দেখিয়েছেন, শিরোনামের এই বিশাল অঙ্কের আড়ালে প্রকৃতপক্ষে ব্যাখ্যাতীত বা অহেতুক বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা দেশের সার্বিক নিরিখে প্রায় ৭০ লাখের কাছাকাছি, যা মূল বিতর্কের তুলনায় বেশ কম। ভাল্লার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রাথমিক খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়া মোট ১৩.৩৭ কোটি নামের বিশাল বড় অংশই মৃত্যু, স্থান পরিবর্তন কিংবা দ্বৈত ভোটার হওয়ার কারণে স্বাভাবিক আইনি প্রভাবেই বাদ পড়েছে।

কমিশনের তথ্য বিশ্লেষণ করে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, দ্বিতীয় দফায় বিহার ও অন্যান্য ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে ৭.২২ কোটি এবং তৃতীয় দফায় ১৭টি রাজ্য থেকে ৬.১৫ কোটি নাম বাদ দেওয়া হয়। এর মধ্যে অন্তত ২.৮ কোটি মৃত ব্যক্তি, ৬.৩ কোটি স্থানান্তরিত নাগরিকে, ১ কোটি ডুপ্লিকেট নাম এবং ৩ কোটি নিখোঁজ বা অপ্রাপ্ত তথ্যসংক্রান্ত নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০২৬ সালের মধ্যভাগে ভারতে প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যা ১০০.৮ কোটিতে পৌঁছোবে ধরে নিয়ে এবং নিবন্ধনের সার্বিক হার ৯২.২ শতাংশে নির্দিষ্ট রেখে ভাল্লা দেখান যে, ৫৩.৫১ কোটি ভোটারের পরিচ্ছন্ন তালিকার বিপরীতে চূড়ান্ত তালিকায় নাম রয়েছে ৫২.৭৮ কোটির। এই ঘাটতি থেকে আনুমানিক পাঁচ লাখ অনাগরিককে বাদ দিলে প্রায় ৭০ লাখ ভোটারের নাম ব্যাখাহীনভাবে বাদ পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি মন্তব্য করেন, “ব্যাখ্যাহীন’ হওয়ার অর্থ এই নয় যে, এই ৭০ লক্ষ মানুষের প্রত্যেককেই ভুলবশত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে; আর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে বিষয়টি মোটেও নগণ্য নয়। তবে এটি প্রতি ১০০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজনেরও কম—সংবাদ শিরোনামে যেমনটি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে প্রতি সাতজনের মধ্যে একজন, তা কিন্তু নয়।”

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০০৪ সালে ভোটারের সংখ্যা প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার চেয়ে ৪.৪ শতাংশ এবং ২০১৪ সালে ৩.১ শতাংশ বেশি ছিল। “কোনো বিতর্ক ছিল না, এবং নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকায় জালিয়াতি করেছে এমন কোনো অভিযোগও ছিল না।” উল্লেখ করে তিনি বোঝাতে চান যে ভোটার তালিকা ত্রুটিমুক্ত করা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও এবারের তড়িঘড়ি পদক্ষেপ, পরিযায়ী ও দরিদ্র মানুষের থেকে বাড়তি নথি চাওয়া এবং ফর্ম-৬ সংক্রান্ত নিয়ম আইনি প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

তবে ভল্লার জাতীয় পরিসংখ্যানে আশার আলো থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের ছবিটা বেশ উদ্বেগজনক। রাজ্যে ভোটার সংখ্যা ৭.৬৬ কোটি থেকে কমে ৬.৭৭ কোটিতে নেমে এসেছে, অর্থাৎ প্রায় ১১.৬ শতাংশ পতন ঘটেছে। ভল্লার হিসেব অনুযায়ী, রাজ্যে পরিচ্ছন্ন তালিকা অনুযায়ী ৭.৩৩ কোটি নাম থাকা উচিত ছিল, যার অর্থ প্রায় ৫০ লাখ যোগ্য ভোটার রাজ্য থেকে অহেতুক বাদ পড়েছেন। এর মধ্যে যুক্তিসঙ্গত অসঙ্গতির অজুহাতে গত এপ্রিল ২০২৬-এ জুডিশিয়াল অফিসাররা যে ২৭ লাখ নাম বাতিল করেন, তার দুই-তৃতীয়াংশই মুসলিম সম্প্রদায়ের। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়া ২২.২ লাখ আপিলের প্রায় ৯৩ শতাংশে ভোটারদের যোগ্যতা প্রমাণিত হলেও মাত্র ১.৩ লাখ আবেদন নিষ্পত্তি হওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। অপরদিকে বিহারে পরিযায়ী শ্রমিকদের আধিক্যের কারণে এখনও প্রায় ৬০ লাখ অতিরিক্ত নাম তালিকায় রয়ে গেছে। সর্বশেষে ভল্লা স্পষ্ট বার্তায় লিখেছেন, “The roll wanted cleansing”, তবে প্রশাসনিক ভুলত্রুটির খেসারত যাতে কোনো প্রকৃত নাগরিককে দিতে না হয়, সেদিকেই নজর রাখা জরুরি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *