উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ ভোটার তালিকায় নাম তোলা, বাদ দেওয়া কিংবা সংশোধনের কাজে ব্যবহৃত ‘ফর্ম ৬, ৭ ও ৮’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ফর্মগুলিতে নির্বাচন কমিশন নিজে থেকে কোনো পরিবর্তন করতে পারে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Courtroom)। বুধবার দিল্লির বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ার নিয়ে এই কড়া মন্তব্য করে শীর্ষ আদালত। একইসঙ্গে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর নেতৃত্বাধীন বিশেষ বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, যাঁদের নাম ইতিমধ্যে আগে থেকেই ভোটার তালিকায় ছিল, তাঁদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কেন ‘ফর্ম ৬’ পূরণ করতে বাধ্য করা হচ্ছে?
বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলাটি ওঠে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত তিন বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চে। শুনানিকালের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ছিল, ‘ফর্ম ৬’ পূরণ করার নিয়মটি কেবলমাত্র নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্ত করার জন্যই প্রযোজ্য। যাঁদের নাম বহু দিন ধরে ভোটার তালিকায় ছিল, কিন্তু নানা প্রশাসনিক জটিলতায় বা তথ্য সংগ্রহের ফর্ম (এনুমারেশন ফর্ম) জমা দিতে পারেননি, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম চাপানো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
দিল্লিতে অদূর ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচন না থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন কেন ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার ব্যাপারে এত জোর দিচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে শীর্ষ আদালত। কমিশনকে পরামর্শ দিয়ে আদালত বলেছে, “নতুন করে নাম তোলার জন্য কোনো চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করবেন না।” পাশাপাশি, যে সমস্ত ভোটার বিভিন্ন কারণে তাদের তথ্য সংগ্রহের ফর্ম জমা দিতে পারেননি, তাঁদের জন্য একটি সহজ ও নমনীয় সমাধানের পথ বের করার প্রস্তাব দিয়েছে আদালত। বিচারপতিদের বক্তব্য, “যদি এমন কোনো ব্যক্তি থাকেন, যাঁর নাম আগে ভোটার তালিকায় ছিল, কিন্তু এখন নেই, তাঁকে ‘নতুন ভোটার’ হিসেবে গণ্য না করে তাঁর পরিস্থিতির সঙ্গে মানানসই একটি সমাধান খুঁজে বের করা উচিত।”
মামলাকারীদের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ আদালতে যুক্তি দেন যে, বহু ভোটার হয় তালিকাভুক্তির ফর্ম পাননি অথবা নানা অনিবার্য কারণে তা জমা দিতে পারেননি। এমনকি এর মধ্যে এমন অনেক নাগরিকও রয়েছেন, যাঁরা দিল্লির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে স্থানান্তরিত হয়েছেন। এই প্রসঙ্গে বিচারপতিরা স্মরণ করিয়ে দেন যে, ভোটার তালিকায় ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য নির্ধারিত ফর্মটি হলো ‘ফর্ম ৮’, আর নতুন ভোটার নিবন্ধনের জন্য রয়েছে ‘ফর্ম ৬’। ফলে যাঁদের নাম আগে থেকেই তালিকায় ছিল, তাঁদের নাম ফের তোলার জন্য ‘ফর্ম ৬’ জমা দেওয়ার চাপ দেওয়া আইনসম্মত নয়।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৫ অক্টোবর প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনের একটি দাবি খারিজ করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল যে, ‘ফর্ম ৬’-এ কোনো ধরনের পরিবর্তনের অনুমোদন সুপ্রিম কোর্ট দেয়নি। কে বা কারা সেই পরিবর্তনে অনুমোদন দিয়েছিল, তা নিয়েও কমিশনের কাছে ব্যাখ্যা তলব করেছিল শীর্ষ আদালত। নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশিকা ও কার্যপদ্ধতি নিয়ে এ দিনের শুনানিতেও আদালতের কড়া বার্তার ফলে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হলো বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও আইনি মহল।

