উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: এসআইআর (SIR) ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়ালকে কেন্দ্র করে বুধবার জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গেল। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী যখন অভিযোগ তুলছেন যে ‘বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে’, ঠিক তখনই দিল্লি থেকেই তাঁকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)। মুখ্যমন্ত্রীর সক্রিয়তাকে ‘ফ্লপ শো’ এবং ‘মনোরঞ্জন’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি।
আদালতে মমতার আর্জি:
এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলি এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে মামলাকারী হিসেবে সওয়াল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, স্যর, বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে। আমি বিচার পাচ্ছি না। তিনি আরও দাবি করেন, জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে ছয়বার চিঠি দিলেও কোনো উত্তর মেলেনি। যদিও মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী সোমবার পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছে আদালত।
সুকান্তর ‘উত্তম কুমার’ খোঁচা:
মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, “এই নাটক বাঙালিরা রোজ দেখে, এবার দিল্লিবাসীও দেখুক। ক্যামেরাকে নিজের দিকে টানার চেষ্টা মাত্র। যাকে বলে— খিঁচ মেরি ফটো!” তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মহানায়ক উত্তম কুমারের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “উত্তম কুমার বড় সুপারস্টার ছিলেন কিন্তু তাঁর হিন্দি সিনেমা ফ্লপ করেছিল। দিদির এই ‘ছোটি সি মুলাকাত’ (দিল্লি সফর ও সওয়াল) সিনেমাটিও ফ্লপ হতে চলেছে।”
বিতর্কের মূলে মাইক্রো অবজারভার:
সুকান্ত মজুমদারের দাবি, নির্বাচন কমিশন রাজ্যের কাছে দ্বিতীয় শ্রেণির অফিসার চেয়েছিল কিন্তু রাজ্য তা দেয়নি। কাজ চালানোর জন্যই কেন্দ্র থেকে মাইক্রো অবজারভার পাঠানো হয়েছে। তাঁর মতে, দার্জিলিংয়ে চা পাতা তোলা বা দিল্লির এজলাসে সওয়াল করা— সবই আসলে প্রচার পাওয়ার কৌশল। সোমবার এই মামলার শুনানি ফের শুরু হলে সংঘাত কোন পথে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
