উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: হরমুজ প্রণালী, যার উত্তরে রয়েছে ইরান এবং দক্ষিণে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। দক্ষিণ এশিয়ায় জ্বালানী তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ এবার বন্ধ হয়ে যেতে পারে! নেপথ্যে ইরান-ইজরায়েল সংঘাত। সূত্রের খবর, ইজরায়েলের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে এই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার চিন্তা ভাবনা শুরু করেছেন ইরান। এমনটা যদি সত্যি হয় তবে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ভারতীয় অর্থনীতি। কারণ ভারতে আমদানি করা ৮৫ শতাংশের বেশি অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়েই আমদানি করা হয়। ফলে দেশে জ্বালানীর দাম বৃদ্ধি সহ শেয়ার বাজারেও এর বড় প্রভাবের আশঙ্কায় প্রমাদ গুনছে ভারত।
প্রসঙ্গত, ইরাক, সৌদি আরব, আরব আমিরশাহী থেকে এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই তেল আমদানি করে ভারত। কিন্তু এই প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে অন্য দেশ থেকে তেল আমদানি করতে হতে পারে। যার ফলে প্রভাবিত হতে পারে ভারতীয় অর্থিনীতি। শুধু তেলই নয়, এই পথে ভারত কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসও আমদানি করে। ভারতীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, এই মুহূর্তে দেশে ৭৪ দিনের মতো তেল মজুত রয়েছে।
তবে শুধু আমদানি নয়, এই পথেই ভারত উপসাগরীয় দেশগুলিতে বিভিন্ন সামগ্রী ও রাসায়নিক রপ্তানি করে থাকে। ফলে এই পথ আটকে দিলে বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে ভারতের রপ্তানি বাণিজ্যও। প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালী মাত্র ৩৪ কিলোমিটার চওড়া। অপরদিকে এই প্রণালীর প্রকৃত নাব্য চ্যানেলটি মাত্র কয়েক কিলোমিটার প্রশস্ত যার ফলে এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে যাতায়াত খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। প্রণালীটি নিয়ন্ত্রণও করা হয় খুবই সাবধানতার সঙ্গে। প্রণালীর কাছাকাছি যেসব বন্দরগুলি রয়েছে সেগুলি হল- ইরানের বন্দর আব্বাস, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর, ওমানের সোহার বন্দর ও কাতারের রাস লাফান।
তবে শুধু ভারত নয় এই প্রণালীটি বন্ধ করে দেওয়া হলে তা বিশ্বব্যাপী জ্বালানী সংকট তৈরি করতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (EIA) এর প্রতিবেদন অনুযায়ী। বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ (২০.৯ মিলিয়ন ব্যারেল প্রতিদিন) এই প্রণালীর মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। যদিও এর ৮০ শতাংশই এশিয়ার বাজারের জন্য নির্ধারিত থাকে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যদি ইরান এই প্রণালীটি বন্ধ করে দেয় তবে ভারতের কাছে কী অপরিশোধিত তেল আমদানির কোনও বিকল্প পথ রয়েছে? এর উত্তরটি হবে হ্যাঁ। এর কারণ মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও ভারত অন্যান্য বিভিন্ন দেশ থেকেও তেল আমদানি করে যাদের মধ্যে রয়েছে, আমেরিকা সহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ। গত এপ্রিলেও এই আফ্রিকার দেশগুলি থেকে ভারত ১২ শতাংশ তেল আমদানি করেছিল। যদিও মে মাসে সেই আমদানির পরিমাণ কমিয়ে আনা হয় ৫ শতাংশে। তবে এইসব দেশ থেকে তেল আমদানি করলেও সেটি ভারতের মোট তেলের চাহিদা কতোটা মেটাতে পারবে তা নিয়েও বড় প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।
