উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার উত্তপ্ত সম্পর্কের বরফ কি তবে গলতে শুরু করেছে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবি অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এক ক্যাবিনেট মিটিংয়ে ট্রাম্প জানান, তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান গোপন আলোচনার (backchannel talks) অংশ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের ১০টি বিশাল জাহাজ পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এটিকে ইরানের পক্ষ থেকে একটি ‘শুভেচ্ছা নিদর্শন’ বা ‘উপহার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ক্যাবিনেট ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প জানান, আলোচনার শুরুতে ইরান তাদের আন্তরিকতা প্রমাণের জন্য আটটি বড় তেলের ট্যাঙ্কার ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ট্রাম্প বলেন, “ওরা বলেছিল, আমরা যে আলোচনার বিষয়ে সিরিয়াস তা বোঝাতে আপনাদের ৮টি বড় তেলের জাহাজ যেতে দেব।”
প্রেসিডেন্ট আরও জানান, প্রথম দিকে তিনি বিষয়টি খুব একটা গুরুত্ব দেননি। কিন্তু কয়েক দিন আগে সংবাদমাধ্যমে হরমুজ প্রণালীর মাঝখান দিয়ে অস্বাভাবিকভাবে আটটি তেলের ট্যাঙ্কার যেতে দেখে তিনি বুঝতে পারেন যে আলোচনা কাজে দিচ্ছে। পরবর্তীতে ইরান কোনো একটি বিষয়ে ক্ষমা চেয়ে আরও দুটি জাহাজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়, যার ফলে মোট জাহাজের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০-এ।
এক চমকপ্রদ তথ্য দিয়ে ট্রাম্প জানান, এই তেলের ট্যাঙ্কারগুলো মূলত পাকিস্তানি পতাকাবাহী (Pakistani flagged)। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের অংশগ্রহণ শুধুমাত্র লজিস্টিক বা কৌশলগত নয়, বরং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইসলামাবাদের একটি বড় ভূমিকা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্প এই ঘটনাকে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন। তার মতে, আমেরিকা এখন ‘সঠিক লোকজনের’ সাথে আলোচনা করছে। তবে আলোচনার সংবেদনশীলতার কথা মাথায় রেখে তিনি রসিকতা করে বলেন, “আশা করি (এই তথ্য ফাঁস করে দিয়ে) আমি আপনাদের আলোচনা আবার নষ্ট করে দিইনি।”
