উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে (Strait of Hormuz) আবারও প্রকাশ্যে “নতুন মার্কিন ভূখণ্ড” বলে দাবি করেছেন আমেরিকার (US) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি বিতর্কিত ছবি শেয়ার করে তিনি এই মন্তব্য পুনর্ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে, আমেরিকার এই তীব্র অর্থনৈতিক চাপ ও ভূরাজনৈতিক পদক্ষেপের কঠোর জবাব দিয়েছে ইরান (Iran)। তেহরানের স্পষ্ট বার্তা—ওয়াশিংটন তার আগ্রাসী অবস্থান পরিবর্তন না করা পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধই থাকবে।
আন্তর্জাতিক জলসীমায় আমেরিকার একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার এই চেষ্টাকে “আইনবহির্ভূত” বলে আখ্যা দিয়েছে ইরান। একই সাথে দেশটি সতর্ক করেছে যে, ওয়াশিংটনের সাথে এই অর্থনৈতিক যুদ্ধে যুক্ত হলে প্রতিবেশী দেশগুলোকেও শত্রুপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, জলপথে চলমান এই উত্তেজনার প্রভাব ইতিমধ্যেই বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মকভাবে পড়তে শুরু করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে প্রতিদিন ২০ metric million-এর বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হত, সেখানে বর্তমানে তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গড়ে প্রায় ৮০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে। যদিও বিশেষ কূটনৈতিক অনুরোধে বাগদাদের কিছু তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে তেহরান, তবুও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
আমেরিকা ইরানের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের (US Sanctions) প্রস্তুতি নিচ্ছে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট চীনকেও অনুরোধ করেছেন যেন তারা ইরান থেকে তেল কেনা বন্ধ করে। জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা আমেরিকা ও তার সহযোগীদের জন্যই বড় বিপদের কারণ হতে পারে।

