উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত কেবল সিবিআই বা ইডি-র মতো কেন্দ্রীয় সংস্থার একচেটিয়া অধিকার নয়, বরং রাজ্য পুলিশও (State Police Investigation) এই ধরনের অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে পারবে। এমনই বার্তা দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Courtroom) স্পষ্ট জানিয়েছে, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো কেন্দ্রীয় কর্মীর বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠন করার ক্ষমতাও রয়েছে রাজ্য পুলিশের।
ঘটনার সূত্রপাত রাজস্থান থেকে। সেখানে একটি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কাজে দুর্নীতির অভিযোগে এক কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে রাজ্য পুলিশ। ওই কর্মচারী আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন যে, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের এক্তিয়ার কেবল সিবিআই-এর রয়েছে। আদালত সেই আর্জি খারিজ করলে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁর যুক্তি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় রাজ্য পুলিশ কেন্দ্রীয় কর্মচারীর (Central Authorities Staff) বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারে না।
বিচারপতি জেবি পারদিওয়াল এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ এই দাবি নস্যাৎ করে দিয়ে জানায়, রাজ্যের সীমানার মধ্যে ঘটা যে কোনো দুর্নীতির তদন্ত করার অধিকার রাজ্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখার (ACB) রয়েছে। আদালত তার রায়ে বলে, “দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৮৮-এর অধীনে তদন্ত কোনো নির্দিষ্ট সংস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয় কর্মচারী হলেও তদন্তে কোনো আইনি বাধা নেই।”
আদালত আরও স্পষ্ট করে দেয় যে, তদন্তের জন্য ‘যথাযথ সরকারের’ অনুমোদনের প্রয়োজন থাকলেও তার মানে এই নয় যে রাজ্য পুলিশ তদন্ত করতে পারবে না। শীর্ষ আদালতের মতে, কোনো কেন্দ্রীয় কর্মচারীই দুর্নীতির তদন্ত এড়াতে ‘যুক্তরাষ্ট্রীয় মর্যাদাকে’ ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন না।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেখানে বিরোধী দলগুলি বারবার সিবিআই বা ইডি-র মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির অপব্যবহারের অভিযোগ তুলছে, সেখানে এই রায় রাজ্য পুলিশকে বাড়তি আইনি শক্তি জোগাল। এর ফলে প্রশাসনিক ফাঁকফোকর দিয়ে কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মীর পার পাওয়ার সুযোগ আরও কমে গেল। এখন থেকে কেন্দ্রীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে সিবিআই-এর অপেক্ষায় বসে না থেকে সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারবে রাজ্য প্রশাসন।
