উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ বক্সে উড়ে আসা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত লামিনে ইয়ামালের গায়ে সরাসরি পা চালিয়ে দিলেন লুকাস ডিগনে (Spain vs France)! আর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ম্যাচের ২০ মিনিটে করা এই এক ভুলের চরম খেসারত দিতে হল দিদিয়ের দেশঁর দলকে। ২-০ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়ে দাপটের সঙ্গে ফাইনালে প্রবেশ করল স্পেন। খাদের কিনারা থেকে লিয়োনেল মেসির মতো দলকে উদ্ধার করতে পারলেন না ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপেও।

লুই দে লা ফুয়েন্তের মাস্টারস্ট্রোক: পারফরম্যান্সের নিরিখে বিশ্বকাপের সেরা দু’দলের এই লড়াইয়ে আগ্রহ ছিল দুই কোচের কৌশলের টক্কর নিয়েও। আর সেখানেই দেশঁকে ছক কষে পিছনে ফেলে দিলেন স্প্যানিশ কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে। শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ছিল স্পেন। পেদ্রো পোরো, পাউ কুবারসি, আয়মেরিক লাপোর্তেরা মাঝমাঠেই নিখুঁত অফসাইডের ফাঁদ পেতে ফর্মে থাকা এমবাপে এবং উসমান দেম্বেলে জুটিকে একপ্রকার অকেজো করে দেন। প্রথমার্ধে একাধিকবার সেই ফাঁদে আটকে যান এমবাপেরা। কুবারসি প্রায় সারাক্ষণই নজরবন্দি করে রাখেন ফরাসি অধিনায়ককে।
ডিগনের ভুল ও স্পেনের লিড: ম্যাচের ২০ মিনিটের মাথায় ডিগনে বক্সের ভেতর ফাউল করে বসেন ইয়ামালকে। স্পেনের হয়ে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি মিকেল ওয়ারজ়াবাল। এই নিয়ে চলতি মরসুমে দেশের হয়ে তাঁর ১৪টি গোল হয়ে গেল, যা স্পেনের জার্সিতে এক মরসুমে কোনো ফুটবলারের সর্বোচ্চ। পিছিয়ে পড়ে ফ্রান্স মাঝমাঠে দাপট বাড়ানোর চেষ্টা করলেও, স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমনের তৎপরতায় এমবাপেদের আক্রমণ বারবার ব্যর্থ হয়। বার দুয়েক সিমন এগিয়ে এসে ফরাসিদের শট মারার জায়গা ছোট করে দলের পতন আটকান।
দ্বিতীয়ার্ধে পোরোর গোল ও ফরাসিদের হতাশা: দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে ফ্রান্স। কিন্তু ৫৮ মিনিটে স্পেনের একটি প্রতি-আক্রমণে বড় ভুল করে বসে ফরাসি রক্ষণ। বক্সের একদম ফাঁকায় বল পেয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে মাইক মাইগনানকে পরাস্ত করেন পেদ্রো পোরো। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর গোলের খোঁজে ৫৯ মিনিটে ডেজ়িরে ডুয়ে এবং ৭২ মিনিটে রায়েন চেরকি ও থিয়ো হের্নান্দেজ়কে মাঠে নামান দেশঁ। কিন্তু স্প্যানিশদের জমাট রক্ষণ ও অফ-দ্য-বল খেলার সামনে খেই হারিয়ে ফেলে ফরাসি আক্রমণ। ৬৪ মিনিটে ইয়ামালের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। ৮৭ মিনিটে বক্সের ঠিক মাথায় ভালো জায়গায় ফ্রিকিক পেলেও এমবাপের শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। একদম শেষে সংযুক্ত সময়ে দেম্বেলের শটও আটকে দেন সিমন। ফলে স্পেনের কাছে টানা তিন ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ থেকে হতাশাজনক বিদায় নিতে হল ফ্রান্সকে।

