দিল্লির যন্তরমন্তরের একা কুম্ভের মতো অনশন করে চলেছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। বৃহস্পতিবার তাঁর অনশন পড়ল ১৯ দিনে। অনশন মঞ্চ থেকে সোনমের বার্তা, “আমি ভালো নেই। তবে পরিস্থিতি এখনও এতটাও খারাপ হয়ে যায়নি।” জানা যাচ্ছে, শুক্রবার তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসছেন আম আদমি পার্টি (আপ)-র প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
সোনমের চিকিৎসা সংক্রান্ত বুলেটিন প্রকাশ করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে সোনমের অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তাঁর ওজন কমে প্রায় ৫৭ কেজিতে নেমে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তাঁর ওজন কমেছে প্রায় ৪০০ গ্রাম। অনশন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত কমেছে প্রায় ৮.৯ কেজি। সোনমের রক্তচাপ ১০৫/৭৬ মিমি এইচজি। রক্তে শর্করার মাত্রা ৮০ মিগ্রা/ডেসিলিটার এবং অক্সিজেনের মাত্রা ৯৭ শতাংশ। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি সচেতন ও মানসিকভাবে সজাগ থাকলেও তাঁকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন। একটি ভিডিও বার্তায় সোনম জানিয়েছেন, তাঁর অনশন যেন ভাঙা না হয়। উলটে তাঁর সমর্থকদের ‘সংসদ চলো’ মিছিলে অংশগ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
I’m Not in good condition however not so dangerous both…
Relatively than asking me to interrupt my quick please be part of me on twentieth July… Peaceable March to the Parliament.#cockroachjanataparty #jantarmantar #cjpprotest #chalosansad pic.twitter.com/QZ6VyxVMAR— Sonam Wangchuk (@Wangchuk66) July 15, 2026
‘র্যাঞ্চো’র অনশন প্রসঙ্গে মুখ খুলেছে তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো। তিনি বলেন, “সমাজমাধ্যম কেন্দ্রিক আন্দোলন এবং তরুণদের অসন্তোষের কথা জানার পর তিনি এই বিষয়টির সঙ্গে একাত্ম বোধ করেন। গোটা বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই ঘটেছে। তিনি তাঁদের পাশে দাঁড়াতে চান। তিনি চান যাতে প্রতিটি শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ এই আন্দোলনে শামিল হন।” তিনি আরও বলেন, “যখন কেউ প্রতিবাদে সোচ্চার হন, তখনই সরকারি সংস্থাগুলি তাঁর দরজায় কড়া নাড়ে। সোনম সেই তৃতীয় কণ্ঠস্বর হতে চান। প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি উদ্বেগজনক। শিক্ষামন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরেই বহু শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।”
উল্লেখ্য, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা-সহ একাধিক দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির পাশে দাঁড়িয়ে গত ১৮ দিন ধরে অনশন করছেন সোনম ওয়াংচুক। এতদিনে সরকারের তরফে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি তাঁর সঙ্গে। বিরোধী দল মৌখিকভাবে তাঁর পাশে দাঁড়ালেও বড় কোনও নেতাকে অনশন মঞ্চের কাছে দেখা যায়নি। খোঁজ নেই কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গেদের। এই অবস্থায় তাঁর অনশন ভাঙাতে দিল্লি হাই কোর্টে একটি মামলাও দায়ের হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
