উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল (ইউটি) লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া সহ একাধিক দাবিতে বুধবার সকাল থেকে বিক্ষোভে (Ladakh Protest) উত্তাল হয়ে ওঠে লেহ (Leh)। বেলা গড়াতেই তা হিংসাত্মক আকার ধারণ করে। পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায় স্থানীয়দের। ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন ৭০ জনেরও বেশি। লাদাখের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার জন্য সরাসরি পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)-কে দায়ী করে কেন্দ্র। জানা গিয়েছে, এবার তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন (ফরেন কনট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্ট বা এফসিআরএ) (FCRA) লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্ত শুরু করতে চলেছে সিবিআই।
সূত্রের খবর, কয়েকদিন আগে থেকেই সোনম ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। কিন্তু এখনও কোনও এফআইআর দায়ের হয়নি। সোনমের সংস্থা ‘হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অফ অল্টারনেটিভস লাদাখ’ (এইচআইএএল) এবং ‘স্টুডেন্টস এডুকেশনাল অ্যান্ড কালচারাল মুভমেন্ট অফ লাদাখ’ (এসইসিএমওএল) -এর বিরুদ্ধে নিয়ম ভেঙে বিদেশি অনুদান নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সংস্থাকে ওয়াংচুক জানিয়েছেন, প্রায় ১০ দিন আগে সিবিআইয়ের তদন্তকারী দল সরকারি নির্দেশনামা নিয়ে তাঁর কাছে এসেছিল। তাঁর কথায়, ‘কেন্দ্রীয় সংস্থা জানিয়েছে, আমাদের বিরুদ্ধে এফসিআরএ-র অধীনে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র না নিয়ে বিদেশি অনুদান গ্রহণের অভিযোগ তোলা হয়েছে। আমরা বিদেশি তহবিলের উপর নির্ভরশীল থাকতে চাই না। আমরা আমাদের জ্ঞান রপ্তানি করি। তার বিনিময়ে খরচ সংগ্রহ করি।’
প্রসঙ্গত, ৬ অক্টোবর লাদাখের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে কেন্দ্রের। তার আগে গতকাল লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা, ষষ্ঠ তপশিলের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে লেহ’তে বিক্ষোভ দেখানো হয়। গতকাল আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল লেহ অ্যাপেক্স বডি (LAB)-র যুব শাখা। অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালীনই লেহ-তে বিজেপির পার্টি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। শুধু তা-ই নয়, পার্টি অফিসের সামনে থাকা একটি পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগানো হয়। তারপরই পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
