শালকুমারহাট: ক’দিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এতেই আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের শিসামারা নদীতে (Sisamara River) জল বাড়ছে। ভুটান পাহাড়ের সঙ্গে এই নদীর সংযোগ। সেই ঘোলা জল দেখে এখনই ভয় পাচ্ছেন নদী তীরের বাসিন্দারা। গত বছরের ৫ অক্টোবরের সেই ভয়াবহ স্মৃতি আজও টাটকা। শিসামারা নদীর বাঁধ ভেঙে সেবার ডলোমাইট মেশানো ঘোলা জলে তলিয়ে গিয়েছিল ঘরবাড়ি আর সুপারি বাগান। মাস ছয়েক কেটে গেলেও আজও নতুন বাঁধ তৈরি হয়নি (Dam Restore)। আর তাতেই ক্ষোভের আগুন জ্বলছে শালকুমার ১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুনপাড়া, মুন্সিপাড়া ও সিধাবাড়ির মতো গ্রামগুলোতে।
নির্বাচনি আবহে যখন রাজনৈতিক প্রচার তুঙ্গে, তখন এই জনপদগুলোতে ছবিটা উলটো। বাঁধের এমন পরিস্থিতি দেখতে এখনও কোনও রাজনৈতিক দলের প্রার্থী আসেননি বলে জানা গিয়েছে। তবে তার আগেই স্থানীয়রা ভোট বয়কটের ডাক দিচ্ছেন (Vote Boycott)। গ্রামবাসীর সাফ কথা, ‘বাঁধ না হলে কাউকেই ভোট দেব না।’ স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোট এলেই প্রতিশ্রুতি মেলে, কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয় না। বর্ষার আগে বাঁধ না হলে এবারও ভিটেমাটি ছাড়তে হবে হাজার হাজার মানুষকে।
সেচ দপ্তর সূত্রে খবর, শিসামারায় নতুন বাঁধের প্রস্তাব রাজ্য স্তরে পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ হলেই কাজ শুরু হবে। তবে ‘ভোটের গেরোয়’ আপাতত সেই আশা দেখছেন না বাসিন্দারা। শিসামারার ঘোলা জল যত বাড়ছে, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে স্থানীয়দের দীর্ঘশ্বাস আর ক্ষোভ। রাজনৈতিক দলগুলি যখন ভোট গণিতে ব্যস্ত, তখন নদীর পাড়ের মানুষ ব্যস্ত শেষ সম্বলটুকু বাঁচানোর চিন্তায়।
