উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR Supreme Courtroom) প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই নিজেদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট করে সুপ্রিম কোর্টে যৌথ হলফনামা জমা দিল নির্বাচন কমিশন (ECI)। কমিশনের অন্দরে মতবিরোধ রয়েছে বলে যে জল্পনা ও অভিযোগ তৈরি হয়েছিল, তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানির ঠিক আগে এই হলফনামা জমা পড়ায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
এসআইআর-এর পদ্ধতি এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার জবাবে কমিশন জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুন, অক্টোবর এবং ২০২৬ সালের মে মাসে এসআইআর নিয়ে যে তিনটি নির্দেশ জারি করা হয়েছিল, সেগুলি সম্পূর্ণ সর্বসম্মতিক্রমেই নেওয়া হয়েছিল।
কমিশনের বক্তব্য, কোনো ফাইল নিয়ে আলোচনা চলাকালীন সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন মতামত, প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকতেই পারে। কিন্তু তাকে কমিশনের অন্দরে মতবিরোধ বলে ব্যাখ্যা করা একেবারেই ঠিক নয়। নিয়ম অনুযায়ী ফাইল প্রথমে নির্বাচন কমিশনারদের কাছে যায় এবং পরবর্তীতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে পৌঁছয়। জরুরি ক্ষেত্রে অনলাইনেও অনুমোদন নেওয়া হয়। কমিশনের দাবি, ফাইলে ব্যক্তিগতভাবে সদস্যদের লেখা নোট বা প্রশ্নকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরা যায় না। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতেই এই মামলাগুলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
ভোটার তালিকায় নাম তোলার ‘ফর্ম ৬’-এ কোনো পরিবর্তন করা হয়নি বলে স্পষ্ট করেছে কমিশন। এটি সংশোধনের একচ্ছত্র ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের। এসআইআর-এর জন্য নেওয়া ঘোষণাপত্রটি একটি আলাদা নথি। তবে অনলাইন আবেদনের সঙ্গে সেটি যেভাবে প্রদর্শিত হয়েছিল, তাতে ফর্ম ৬ সংশোধিত হয়েছে বলে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।
যে ভোটারদের পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে সংযোগ বা ‘ম্যাপিং’ করা যায়নি, তাঁদের প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবে শুনানিতে হাজির হতে হবে না। বুথ স্তরের আধিকারিকেরা (BLO) নিজেরাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করবেন। বিশেষ পরিস্থিতিতে শুনানি হলে তা অনলাইনে করার ব্যবস্থাও রাখা হবে।
গোয়ার ভোটার তালিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে কমিশন জানিয়েছে, মামলাটিতে যে ৯৭ জন ভোটারের কথা বলা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ৮৮ জনের নাম ইতিমধ্যে তালিকায় রয়েছে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে তাঁর দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখার যে আবেদন জানানো হয়েছিল, তারও জোরালো বিরোধিতা করেছে কমিশন। হলফনামায় জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে অপসারণের নির্দিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ছাড়া মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে তাঁর পদ থেকে সরানো যায় না। এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আজকের শুনানির আগে কমিশনের এই যৌথ হলফনামা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

