বর্ধমান: ভোটার তালিকায় নাম নেই, তাই ডাক পড়েছিল নির্বাচন কমিশনের এসআইআর (SIR) শুনানিতে। কিন্তু সেই শুনানির নোটিশ হাতে পাওয়ার পর থেকেই গ্রাস করেছিল দেশছাড়া হওয়ার ভয়। সেই আতঙ্কেই (SIR Panic) শেষ পর্যন্ত চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হলেন পূর্ব বর্ধমান জেলার বৈকুণ্ঠপুর ২ নম্বর পঞ্চায়েতের রায়নগরের বাসিন্দা ফুলমালা পাল (৫৭)। শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে রেললাইন থেকে তাঁর ছিন্নভিন্ন মৃতদেহ উদ্ধার হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান উত্তর বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা ফুলমালা দেবীর স্বামী ও ছেলের নাম খসড়া ভোটার তালিকায় থাকলেও তাঁর নিজের নাম ছিল না। এমনকি ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতেও তাঁর নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি। নাম ‘আনম্যাপিং’ ভুক্ত হওয়ায় আগামী ৫ জানুয়ারি তাঁকে শুনানিতে হাজির হওয়ার জন্য কমিশনের তরফে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল।
মৃতার স্বামী সুনীল পাল কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, “নোটিশ পাওয়ার পর থেকেই ও ভীষণ আতঙ্কে ছিল। বারবার বলত, ওকে ভারত থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। আমি অনেক বুঝিয়েছিলাম যে এমন কিছু হবে না, কিন্তু ওর দুশ্চিন্তা কাটেনি।” শুক্রবার ভোরে বাড়ির কাউকে কিছু না জানিয়ে রেললাইনে গিয়ে আত্মঘাতী হন তিনি। বর্ধমান জিআরপি মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পর বিকেলে পরিবারের হাতে তুলে দেয়।
এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বর্ধমানের রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সমবেদনা জানাতে মৃতার বাড়িতে পৌঁছান বর্ধমান উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক নিশীথ মালিক এবং জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি রাসবিহারী হালদার। তাঁরা সরাসরি নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়াকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, “এই অমানবিক এসআইআর প্রক্রিয়া বাংলার একের পর এক মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে।”
অন্যদিকে, জেলা বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, “এই আত্মহত্যার কারণ পারিবারিক, এসআইআর নয়। মৃতার জামাই ওই এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য হওয়ার সুবাদে বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। তৃণমূল মৃতদেহ রাস্তায় রেখে রাজনীতি করছে।”
কমিশন যেখানে বারবার আশ্বস্ত করছে যে এসআইআর কেবল তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া, সেখানে ফুলমালা পালের এই মৃত্যু সাধারণ মানুষের মনে জমাট বাঁধা গভীর আতঙ্ককেই ফের প্রকাশ্যে এনে দিল।
