কুমারগঞ্জ: কুমারগঞ্জ ব্লকের (SIR Listening to) দিওর এলাকার বাসিন্দা বছর একত্রিশের দারজুল ইসলাম সরকার পেশায় রাজমিস্ত্রি। দিন আনা দিন খাওয়া এই শ্রমজীবী যুবক বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মুখে। তার কাছে এসেছে এসআইআর হেয়ারিং নোটিশ। কিন্তু পারিবারিক ও নথিগত জটিলতার কারণে সেই হেয়ারিংয়েই সমস্যার সমাধান তো দূরের কথা, বরং আরও গভীর সংকটে পড়েছেন তিনি।
দারজুলের বাবা কেরামুদ্দিন সরকার প্রায় ২৮ বছর আগে, ১৯৯৭ সালে মারা যান। সেই সময় দারজুল খুবই ছোট। গত মাসে পরিবারের সমস্ত সদস্যই এসআইআর ফর্মে লিংকেজ হিসেবে মায়ের নাম ব্যবহার করেছেন। তার মা হায়াতুল বিবির বর্তমান বয়স প্রায় ৬০ বছর এবং তার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল। দারজুল নিজেও এসআইআর ফর্মে মায়ের নামই লিংকেজ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সমস্যা শুরু হয় হেয়ারিংয়ের সময়। দারজুলের সমস্ত সরকারি কাগজপত্র—আধার, পরিচয় সংক্রান্ত নথি—সবেতেই বাবার নাম রয়েছে। কিন্তু বাবা অনেক আগেই মারা যাওয়ায় ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় বাবার নাম ছিল না। অন্যদিকে মায়ের নাম থাকলেও, নথিতে বাবার নাম থাকার কারণে হেয়ারিং কর্তৃপক্ষ তার কাগজপত্রে অসঙ্গতির কথা তুলে ধরেন।
আজ সারাদিন হেয়ারিংয়ে উপস্থিত থেকেও দারজুল কোনও সমাধান সূত্র পাননি। উল্টে তাকে বিদ্যালয়ের শংসাপত্র (স্কুল সার্টিফিকেট) আনতে বলা হয়েছে। অথচ বাস্তবতা হল, দারজুল কোনওদিনই স্কুলে পড়াশোনা করেননি। ছোটবেলা থেকেই সংসারের অভাবের কারণে কাজকর্মে যুক্ত হতে হয়েছিল তাকে। ফলে স্কুলের কোনও নথি বা শংসাপত্র তাঁর পক্ষে জোগাড় করা একেবারেই অসম্ভব।
এই পরিস্থিতিতে কার্যত দিশেহারা দারজুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘বাবা ১৯৯৭ সালে মারা গেছেন। তাই ফর্মে মায়ের নাম দিয়েছিলাম। কিন্তু হেয়ারিংয়ের চিঠি শুধু আমারই এসেছে, বাড়ির আর কারোর আসেনি। আমার সব কাগজে বাবার নাম আছে। এখন স্কুলের সার্টিফিকেট চাইছে, আমি তো কোনওদিন স্কুলেই পড়িনি। এখন আমি কী করব?’
এসআইআর সংক্রান্ত এই জটিলতায় কাজ ছেড়ে দিনের পর দিন ঘুরতে বাধ্য হচ্ছেন দারজুল। সংসারের একমাত্র রোজগেরে সদস্যের এমন অবস্থায় পরিবারেও চরম উদ্বেগ। এই নিয়ে তৃণমূল বিষয়টিতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তৃণমূল নেতা মফিজুদ্দিন মিঞা এবং উজ্জ্বল বসাক দুইজনেই জানান, ‘একটা দিন শ্রমিক দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তার মা এখনও বেঁচে আছেন, যার নাম ২০০২ এর তালিকায় ছিল। সে লিংকেজ হিসেবে মায়ের নামটাই দিয়েছিলেন। দারজুল কোনওদিন স্কুলে পড়েননি। কাজকর্ম ছেড়ে তিনি এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এর দায় কে নেবে?’ কুমারগঞ্জ ব্লকের বিডিও শ্রীবাস বিশ্বাস জানান, ‘এই বিষয়টা নির্দিষ্ট ঐ টেবিলের এইআরও ভালো বলতে পারবেন। তবে বিষয়টি জানলাম, দেখছি।’ এইআরও মিঠুন বর্মণ বলেন, ‘বিষয়টি দেখছি।’ স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বাস্তব পরিস্থিতি ও শ্রমজীবী মানুষের সামাজিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে প্রশাসনের উচিত বিকল্প নথির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা, যাতে নিরীহ মানুষকে অকারণে হয়রানির শিকার না হতে হয়।
