উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার চূড়ান্ত কড়া অবস্থান নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন (Election Fee)। তালিকায় কোনো বিদেশি নাগরিকের নাম থাকা চলবে না, এই বার্তাকে সামনে রেখে শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়াল এবং সমস্ত জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (ডিইও) সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করল কমিশনের সম্পূর্ণ বেঞ্চ। তালিকায় (Voter Record 2026) কোনও ‘গলদ’ পাওয়া গেলে আধিকারিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও কর্মজীবনে বিরূপ প্রভাবের কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এদিনের বৈঠকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে অন্তত সাতটি জেলার জেলাশাসক কমিশনের তোপের মুখে পড়েন। এসআইআর (SIR) নথি আপলোডে দেরি হওয়ায় কোচবিহারের জেলাশাসক ভর্ৎসিত হন। এছাড়া জলপাইগুড়ি, মালদহ, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসকদের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসককে রাজনৈতিক মন্তব্য না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে মাইক্রো অবজার্ভারদের তৃণমূল নেতার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় জেলাশাসকের কাছে কৈফিয়ত চেয়েছে কমিশন। অভিযুক্ত ইআরও-র (ERO) ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
বৈঠকে কমিশন লক্ষ্য করেছে যে, অনেক ক্ষেত্রে সংবাদপত্রের কাটিং, ফাঁকা পৃষ্ঠা বা অস্পষ্ট ছবি নথি হিসেবে আপলোড করা হয়েছে। কমিশন সাফ জানিয়েছে, কোনও ভুয়ো বা অননুমোদিত নথি বরদাস্ত করা হবে না।আগামী সোমবার বিকেল ৫টার মধ্যে সমস্ত নথি ডিইও-দের ব্যক্তিগতভাবে যাচাই করে নিশ্চিত করতে হবে।চূড়ান্ত তালিকায় যদি কোনও বিদেশি নাগরিকের নাম ৫ বছর পরেও শনাক্ত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে জবাবদিহি করতে হবে। কমিশনের আর্কাইভে এই নথিপত্র বহু বছর সংরক্ষিত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
মাইক্রো অবজার্ভারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, ডিইও বা ইআরও পর্যায়ের কেউ নিয়ম ভাঙলে তা সরাসরি কমিশনকে জানাতে। ভোটার তালিকা থেকে অযোগ্যদের সরাতে এবং তালিকা নির্ভুল করতে কমিশন যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে চলছে, শুক্রবারের বৈঠক তা স্পষ্ট করে দিল।
