উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের কড়া নিয়মের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতার এক অনন্য নজির গড়লেন পুরুলিয়ার আড়শা ব্লকের বিডিও গোপাল সরকার। সরকারি দপ্তরে অসুস্থ উপজাতি বৃদ্ধদের ডেকে না পাঠিয়ে, নিজেই আধিকারিকদের নিয়ে তাঁদের ঝুপড়িতে পৌঁছে গেলেন তিনি। প্রশাসনের এই সংবেদনশীল আচরণে আপ্লুত এলাকাবাসী (SIR in West Bengal)।
ঘটনার সূত্রপাত আড়শা ব্লকের চাটুহাঁসা চাটান এলাকায়। সেখানে বসবাসকারী মালহার উপজাতির কালু মালহার, তাঁর স্ত্রী চক্রবর্তী মালহার এবং প্রতিবেশী লঙ্কেশ্বর মালহারের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় না থাকায় তাঁদের শুনানির জন্য বুধবার ব্লক কার্যালয়ে তলব করা হয়েছিল। কিন্তু প্রবল ঠান্ডায় কালু বাবু ও তাঁর স্ত্রী প্রচণ্ড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। দিনমজুর এই পরিবারের পক্ষে অসুস্থ শরীরে ব্লক অফিসে যাওয়া সম্ভব ছিল না।
সাধারণত নির্বাচন কমিশনের (ECI) বিধি অনুযায়ী, ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে বা বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যরা এসে শুনানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন। তবে মানবিকতার খাতিরে বিডিও গোপাল সরকার কোনো ঝুঁকি না নিয়ে নিজেই তাঁদের ডেরায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বুধবার দুপুরে তিনি আধিকারিকদের নিয়ে চাটুহাঁসা চাটানের ওই ঝুপড়িতে উপস্থিত হন এবং সেখানেই টিপসই ও আনুষঙ্গিক নথিপত্র খতিয়ে দেখে শুনানি সম্পন্ন করেন।
বিডিও (BDO) গোপাল সরকার জানান, “ওই তিন সদস্য অসুস্থ বলে জানতে পারার পরেই আমরা তাঁদের আবাসস্থলে গিয়ে শুনানি করার সিদ্ধান্ত নিই। তাঁদের সমস্যার কথা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ।” যদিও অভাবের সংসারে প্রয়োজনীয় সব নথি তাঁরা দেখাতে পারেননি, তবে বিডিওর এই স্বশরীরে উপস্থিত হওয়া তাঁদের কাছে বড় পাওনা। কালু মালহার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “জ্বরে উঠতে পারছিলাম না। বিডিও বাবু নিজে এসে সব দেখে গিয়েছেন, এতে আমরা খুব উপকৃত হলাম।”
মূলত কলি উপজাতির এই মালহার পরিবারগুলি অত্যন্ত দরিদ্র। একসময় পশ্চিমঘাট পর্বতমালা থেকে আসা এই যাযাবর গোষ্ঠী বর্তমানে দিনমজুরি করে জীবন কাটান। যখন প্রশাসনিক জটিলতায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের খবর নিত্যনৈমিত্তিক, তখন আড়শার বিডিও-র এই উদ্যোগ এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।
