শিলিগুড়ি : ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর মায়ের নাম নেই বলে অভিযোগ তুললেন শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ প্রিয়াংকা বিশ্বাস। তাঁর মা বাসন্তী বিশ্বাস তিনবারের পঞ্চায়েত সদস্য, পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা। কিন্তু তারপরও কেন এমন হল? সেই প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী প্রিয়াংকা। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করা ২০০২ সালের ভোটার তালিকা ত্রুটিযুক্ত ও অসম্পূর্ণ বলে অভিযোগ তুলে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন তিনি। ২০০৪ সালে কংগ্রেসের টিকিটে মাটিগাড়া ২ গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ভোটে জিতে সদস্য হওয়া বাসন্তী বিশ্বাসের নাম ২০০২-এর তালিকায় কীভাবে নেই, সেই প্রশ্ন তিনি তুলেছেন।
প্রিয়াংকার কথায়, ‘মা যেহেতু সরকারি চাকরি করতেন, জনপ্রতিনিধি ছিলেন, তাঁর পক্ষে নিজেকে ভোটার প্রমাণ করা কঠিন নয়। কিন্তু সকলের কাছে তো পর্যাপ্ত কাগজপত্র নেই। যাঁদের নাম ২০০২-এর ভোটার তালিকায় নেই, তাঁরা কীভাবে নিজেদের ভোটার প্রমাণ করবেন, সেটাই বড় প্রশ্ন।’
নির্বাচন কমিশনের তরফে ওয়েবসাইটে ২০০২ সালের ভোটার তালিকা প্রকাশ করার পর সেটা ডাউনলোড করে নিজেদের নাম দেখার হিড়িক পড়েছে। প্রিয়াংকা সেই তালিকা ডাউনলোড করে তাতে পরিবারের অন্য সদস্যদের নাম খুঁজে পেলেও তাঁর মায়ের নাম খুঁজে পাননি বলে অভিযোগ। মাটিগাড়া জিএসএফপি স্কুল থেকে ২০১৫ সালে শিক্ষিকা হিসেবে অবসর নেন বাসন্তী বিশ্বাস। অসুস্থতার কারণে সেভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। এমন অবস্থায় ভোটার তালিকায় তাঁর নাম না থাকাকে ‘দুঃখজনক’ বলছেন বাসন্তী।
তাঁর কথায়, ‘কংগ্রেস করার সময় তিনবার নির্বাচনে লড়েছি। জন্ম শিলিগুড়ির আশ্রমপাড়ায়, বাইরে থেকে আসিনি। মাটিগাড়ায় বিয়ে হয়। এখন নিজেকে ভোটার প্রমাণ করতে লাইনে দাঁড়াতে হলে তার চাইতে দুঃখের আর কিছু হবে না।’
ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) নিয়ে প্রথম থেকে সরব তৃণমূল। এই ঘটনা সামনে আসার পর তৃণমূল আসরে নামছে। কাদের নাম তালিকায় নেই, তার তথ্য জোগাড় করতে শুরু করেছে তারা। তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা (সমতলের)-র বুথ লেবেল এজেন্ট (বিএলএ) ওয়ান পাপিয়া ঘোষ বলছেন, ‘২০০২ সালের যেটা আসল ভোটার তালিকা, তার সঙ্গে ওয়েবসাইটে আপলোড করা তালিকার মিল নেই। দিল্লি ও বিহারের ক্ষেত্রে তাই হয়েছে। একজন প্রকৃত ভোটারের নাম যাতে বাদ না যায়, সেই কারণে আমরা মাঠে নেমেছি। এসবের পেছনে বিজেপির হাত রয়েছে।’
এবিষয়ে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিজেপি বিধায়ক আনন্দময় বর্মনের বক্তব্য, ‘একজন যোগ্য ভোটারের নাম তালিকায় না থাকলে তাতে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। হয়তো নাম তোলার সময় নির্বাচন কমিশনের কোনও ভুল হতে পারে। এসআইআর প্রক্রিয়া একবার শেষ হলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’ বিধায়কের কটাক্ষ, ‘ভুয়ো, বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের ভোট তৃণমূলের জেতার কারণ। সেই ভোট নষ্ট হোক, তা তৃণমূল চাইছে না। তাই নানা অভিযোগ করছে।’
