এসআইআর ইস্যুতে সংসদে জোরালো আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করল তৃণমূল কংগ্রেস। কীভাবে সংসদে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মুখোমুখি লড়াই হবে তার রণকৌশল ঠিক করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিকেলে সাউথ অ্যাভিনিউতে দলের সংসদীয় দলের বৈঠকে হাজির ছিলেন তিনি। আজ, বুধবার থেকেই সংসদের উভয় কক্ষে এসআইআর ইস্যুতে আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালন করতে হবে বলে দলীয় সাংসদদের নির্দেশ দেন মমতা। তিনি তৃণমূলের সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সনও।
আরও পড়ুন:
বৈঠকে এসআইআরের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদেরও উপস্থিত করা হয়। তাঁদের সঙ্গে সাংসদদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় এবং ক্ষতিগ্রস্তরা নিজেদের দুর্ভোগ, হয়রানি ও হেনস্থার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সাংসদরা সেই সমস্ত কথা মন দিয়ে শোনেন। দলনেত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, আজ থেকেই সংসদের উভয় কক্ষেই এসআইআরে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এবং প্রবীণ ও অসুস্থদের দীর্ঘক্ষণ শুনানির লাইনে দাঁড় করিয়ে কীভাবে হয়রানি করা হচ্ছে, সেই বিষয়গুলি তুলে ধরবেন তৃণমূল সাংসদরা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উপর চাপিয়ে দেওয়া এই ব্যবস্থাকে ‘মানবতাবিরোধী’ বলে আক্রমণ শানাবেন তাঁরা।
মঙ্গলবার বিকেলে সাউথ অ্যাভিনিউতে দলের সংসদীয় দলের বৈঠকে হাজির ছিলেন মমতা। আজ, বুধবার থেকেই সংসদের উভয় কক্ষে এসআইআর ইস্যুতে আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালন করতে হবে বলে দলীয় সাংসদদের নির্দেশ দেন তিনি।
বৈঠকের পর দলের বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই সরকার বাংলার উপর যে লাগাতার বঞ্চনা চালাচ্ছে, তা আর চুপ করে সহ্য করা হবে না। এসআইআর নিয়ে মানুষের ভোগান্তির বিরুদ্ধে সংসদে গর্জে উঠতে হবে। বিজেপি সরকারের এই দমনমূলক নীতির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবেই।” সংসদের উভয়কক্ষেই সাংসদদের নিয়মিত হাজির থাকতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, গত দু’দিন ধরে দিল্লিতে একের পর এক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন মমতা। এসআইআর আবহে চাপ বাড়াতে রাজধানী দিল্লিতে পাড়ি দিয়েছেন। সঙ্গে রয়েছেন এসআইআর-এ ‘ক্ষতিগ্রস্ত’দের পরিবারের লোকজনেরা। সোমবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে নির্বাচন সদনে প্রায় সোয়া একঘণ্টা বৈঠকও করেছেন তিনি। তবে সে বৈঠকে যে মোটেও সন্তুষ্ট নন তা সাফ জানিয়েছেন। তার ঠিক চব্বিশ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার বঙ্গভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেন মমতা। এসআইআর ‘ক্ষতিগ্রস্ত’দের দুর্ভোগ, স্বজনহারানোর যন্ত্রণার কথা দিল্লির সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।
সর্বশেষ খবর
