শিলিগুড়ি: লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই রাজ্যজুড়ে সক্রিয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। সোমবার ভোররাত থেকে শিলিগুড়ির একাধিক জায়গায় ঝটিকা অভিযান চালালো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। মূলত অবৈধ কল সেন্টার ও তার মাধ্যমে হওয়া আর্থিক তছরুপের মামলার শিকড় খুঁজতেই এই তল্লাশি বলে জানা গিয়েছে।
অভিযানের মূল লক্ষ্যবিন্দু
এদিন শহরের তিনটি প্রধান জায়গায় ইডি আধিকারিকরা হানা দেন:
• দুধমোড় এলাকা: স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন ঘোষের বাড়িতে ভোর ৪টে নাগাদ হানা দেয় ইডি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে চলে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ। স্বপনবাবুর ছোট ছেলেকে নিয়ে ইসকন রোডের অন্য একটি বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়।
• হাকিমপাড়া (রাসবিহারী সরণি): পুরনিগমের প্রাক্তন অস্থায়ী কর্মী অরিন্দম সিকদারের বাড়িতে হানা দেয় তদন্তকারীরা। ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি পুরনিগমে কর্মরত ছিলেন।
• থানামোড় সংলগ্ন অ্যাপার্টমেন্ট: মৃত দীপঙ্কর ধারা নামে এক ব্যক্তির ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। সেখানে কেউ না থাকায় ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন আধিকারিকরা।
উঠে এল ‘কলকাতা কানেকশন’
তদন্তকারীদের নজরে আসা প্রত্যেকের সঙ্গেই কলকাতার গভীর যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে: ১. স্বপন ঘোষের ছোট ছেলে কলকাতায় ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ২. প্রাক্তন পুরকর্মী অরিন্দম সিকদার কাজ ছাড়ার পর কলকাতায় রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। ৩. দীপঙ্কর ধারার পরিবারও মূলত কলকাতাতেই থাকতেন, শিলিগুড়ির ফ্ল্যাটে তাঁদের যাতায়াত ছিল নামমাত্র।
উদ্ধার বিপুল পরিমাণ মদ
এদিন বাবুপাড়ার অ্যাপার্টমেন্টে তল্লাশি চালানোর সময় ইডি আধিকারিকরা বিপুল পরিমাণ মদের বোতল উদ্ধার করেন। অবৈধ কল সেন্টার ও আর্থিক তছরুপের তদন্তে গিয়ে এই বিপুল পরিমাণ মদ মেলায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইডির পক্ষ থেকে আবগারি দপ্তরকে খবর দেওয়া হলে তাঁরা এসে ওই মদ বাজেয়াপ্ত করেন।
স্থানীয়দের বয়ান ও বর্তমান পরিস্থিতি
দুধমোড় এলাকার এক বাসিন্দা জানান, ভোররাত থেকেই এলাকায় সন্দেহভাজন গতিবিধি লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। ৪টে নাগাদ গাড়ি নিয়ে আধিকারিকরা বাড়িতে ঢুকে পড়েন। অন্যদিকে, দীপঙ্করের পরিচিতদের দাবি, ফাটাপুকুর এলাকায় তাঁদের একটি হোটেলও রয়েছে।
