রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি: শেষ কিস্তির টাকা এসেছিল গত আর্থিক বর্ষে। চলতি বছর শিলিগুড়ি পুরনিগম এলাকায় (Siliguri) হাউজিং ফর অলে (Housing for all) কোনও টাকা আসেনি। যে কারণে কেউ অর্ধসমাপ্ত ঘরে কোনওক্রমে টিনের বেড়া দিয়ে থাকছেন, তো কারও দিন কাটছে ভাড়াবাড়িতে। পুরনিগম সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত প্রায় ১ হাজারেরও বেশি মানুষ হাউজিং ফর অলের কিস্তির টাকা পাননি। কেউ একটি কিস্তির টাকা পেয়েছেন তো কেউ তিন কিস্তির টাকা পাওয়ার পর আর পাননি। কেউ আবার দুটি কিস্তির টাকায় শুধু ছাদ ঢালাই দিয়েছেন। এভাবেই শিলিগুড়ি শহরে হাউজিং ফর অলের উপভোক্তারা অর্ধসমাপ্ত বাড়ি তৈরির পর অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
বিরোধীদের অভিযোগ, হাউজিং ফর অলের কিস্তির টাকার একাংশ নাগরিকদের বাড়িভাড়া দিতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বস্তি এলাকার মানুষের বেশি সমস্যা হচ্ছে। যে এলাকায় বস্তি রয়েছে, সেই ওয়ার্ডগুলি থেকে আবেদনকারীও বেশি। কেন কিস্তির টাকা দেওয়া হচ্ছে না, এ প্রসঙ্গে জানতে শিলিগুড়ি পুরনিগমের সংশ্লিষ্ট বিভাগের মেয়র পারিষদ দিলীপ বর্মনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার টাকা দিচ্ছে না। যে কারণে রাজ্য থেকে পুরো টাকা পাঠাতে পারছে না।’ যদিও পুরনিগমের বিরোধী দলনেতা অনীত জৈনের অভিযোগ, ‘কেন কেন্দ্র দিচ্ছে না টাকা সেটাও বলুক। আগে হিসেব দিক তবেই কেন্দ্র টাকা দিয়ে দেবে। রাজ্য তাদের অংশের টাকাটা দিক।’
সিপিএম কাউন্সিলার মুন্সি নুরুল ইসলাম বললেন, ‘এমনকিছু মানুষ আছে যারা এতটাই গরিব যে ভাড়াবাড়িতে থেকে বাড়ি ভাড়া দিয়ে দু’বেলা ঠিকমতো খেতে পারছে না। তাদের বাড়তি টাকা বহন করতে হচ্ছে।’
শিলিগুড়ি পুরনিগম এলাকায় শেষবার মার্চ মাসে হাউজিং ফর অলের টাকা এসেছিল। ওই সময় কাউকে প্রথম কিস্তি, কাউকে দ্বিতীয় কিস্তি, কাউকে আবার তৃতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হয়েছিল। তারপর কিস্তির টাকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন উপভোক্তারা। ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে এক গৃহবধূ প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছেন। সেই টাকায় কিছুটা কাজ করেছেন তিনি। এখন ওই অর্ধসমাপ্ত ঘরেই থাকতে হচ্ছে তাঁকে। পুরনিগমের ৪ নম্বর ওয়ার্ডেও এরকম একাধিক পরিবার রয়েছে। ৪৫, ৭, ৩, ৫, ২২ নম্বর সহ একাধিক ওয়ার্ডে হাউজিং ফর অলের উপভোক্তারা সময়মতো টাকা পাচ্ছেন না।
