শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি: ঠিক যেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ। ঠিকমতো কোনও সংস্থা চালাতে দেশের তাবড় প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজমেন্টের দারুণ সমস্ত কোর্স করানো হয়। শিলিগুড়ির (Siliguri) ডাকাতির ঘটনাতেও যেন এমনই কোর্সের ছোঁয়া। এই ডাকাতিতে (Theft Case) ধরা পড়া দুই দুষ্কৃতী সাফিক খান ও মহম্মদ সামশাদকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, দলটি বছরে একটি মাত্র ‘সফল অপারেশন’-এ বিশ্বাসী। আর তাতেই দলের সদস্যদের এক-একজনের প্রতি বছরে গড়ে ১০ লক্ষ টাকা আরামে ‘রোজগার’ হয়ে যায়। টাকাটা মাসের হিসেবে ভাগ করলে আজকালকার চাকরির বাজারে ‘যথেষ্টই ঈর্ষণীয়’। তদন্তে চমকে দেওয়া এমন আরও তথ্যই জানা যাচ্ছে।
শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটান পুলিশের ডিসিপি (ইস্ট) রাকেশ সিংয়ের কথায়, ‘যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর পেতে আমরা গোটা ঘটনার পুনর্নির্মাণ করছি। বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে তদন্তে মেলা সমস্ত তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে এই ডাকাতির ঘটনায় দেশের চারটি জায়গার যুক্ত থাকার বিষয়ে জানা গিয়েছে। আমাদের তদন্তকারী টিম সেই সমস্ত জায়গায় গিয়ে দুষ্কৃতীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।’
রবিবার শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোডে একটি নামী গয়নার দোকানে ডাকাতির পর থেকেই এই ‘অপারেশন’ সবার চর্চায়। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, দলের সদস্যরা বছরে একাধিক অপারেশনে মোটেও বিশ্বাসী নয়। বরং একটি জায়গাকে চিহ্নিত করে সেই জায়গাতেই মাসের পর মাস রেইকি করে কোটি টাকার গয়না লুট করাটাই এদের লক্ষ্য। এভাবে অপারেশন চালিয়ে যে আয় হয় তাতে তাদের পরিবার ভালোভাবেই চলে বলে ধৃতরা পুলিশকে জানিয়েছে।
গ্যাংটি দেশের নানা প্রান্তে অপারেশন চালালেও কোটি কোটি টাকার গয়না মূলত একজনকেই বিক্রি করে থাকে। সেই ব্যক্তি ভিনরাজ্যের বাসিন্দা। পুলিশ সেই বিশেষ ব্যক্তির খোঁজ চালাচ্ছে। এই গ্যাংয়ের সঙ্গে বিহারের এক বাহুবলী রাজনীতিবিদের যোগাযোগ রয়েছে বলে মঙ্গলবারই উত্তরবঙ্গ সংবাদে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেই ব্যক্তির হাত মাথায় থাকায় দুষ্কৃতীরা নিশ্চিত হয়ে অপারেশন চালায়। লুটপাটের সময় হাতে আগ্নেয়াস্ত্র থাকলেও খুব প্রয়োজন না থাকলে তারা কারও ওপর গুলি চালায় না বা সেভাবে মারধরও করে না।
অবাক করার মতো তথ্য আরও আছে। ধরা পড়লে খুব বেশি হলে কয়েক মাসের কারাবাস। তারপর ছাড়া পেয়ে ফের এজাতীয় দুষ্কর্ম। গ্যাংটি নাকি এই তত্ত্বেই বিশ্বাসী। যারা এভাবে কাজ করে তাদের পিছনে পাকা মাথার বহু হিসেবনিকেশ রয়েছে বলেই তদন্তকারীরা মনে করছেন। দলের সদস্যরা এর আগে বিহার, রাজস্থানে এমন দুষ্কর্ম করে ধরা পড়ে। তারপর জেলে যায়। ফের ফিরে এসে তারা আবার এ ধরনের অপরাধে জড়ায়।
সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে পুলিশ আর একটা বিষয়েও পরিষ্কার, গ্যাংয়ের পান্ডাই সবচেয়ে বেশি গয়না নিয়ে পালিয়েছে। তবে ডাকাতির ঘটনায় ব্যবহার করা অন্য বাইকগুলি কোথায় সে বিষয়ে তদন্তকারীরা এখনও অন্ধকারে। বাকিরা সবাই মিলে বাইকে করেই ভিনরাজ্যে পালিয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা চলছে।
