Siliguri | প্রতিবাদ করায় মারধরে অভিযুক্ত অধরা, তিনদিন ঘুরেও মেলেনি জিডি নম্বর

Siliguri | প্রতিবাদ করায় মারধরে অভিযুক্ত অধরা, তিনদিন ঘুরেও মেলেনি জিডি নম্বর

শিক্ষা
Spread the love


রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি: বেপরোয়াভাবে টোটো চালানোর প্রতিবাদ করেছিলেন এক মহিলা ও তাঁর স্বামী। চালকের সঙ্গে কথা কাটাকাটি চলাকালীন উপযাচক হয়ে অন্য এক ব্যক্তি এসে জড়িয়ে পড়েন ঝামেলায়। তাঁর বিরুদ্ধে ওই মহিলাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, এফআইআর নিতে আক্রান্তকে হয়রানি করার অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটে ফুলেশ্বরীতে (Siliguri)।

মারধরের অভিযোগ জানাতে তিনদিন শিলিগুড়ি থানায় ঘুরতে হয়েছে তাঁকে। দ্বিতীয়দিনে অভিযোগপত্র নিলেও থানা থেকে জিডি নম্বর দেওয়া হয়নি বলে দাবি আক্রান্তের। সেখান থেকে জানানো হয়, পরে ফোন করে ডেকে জিডি নম্বর দেওয়া হবে। ঘটনার পর ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়েছে, থানা থেকে যদিও ফোন আসেনি। মহিলার প্রশ্ন, আদৌ তদন্ত হবে তো? থানার আধিকারিকদের ভূমিকায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই ইস্যুতে শিলিগুড়ির ডিসিপি রাকেশ সিং (জোন ১)-এর সাফাই, ‘আমার বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’

আশিঘরের বাসিন্দা মনতোষ দাস স্ত্রী নবনীতা চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে নিউ জলপাইগুড়ির ভক্তিনগরের দিকে আত্মীয়ের বাড়ি যাচ্ছিলেন। ওই সময় একটি টোটো বেপরোয়া গতিতে এসে তাঁদের গা ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। পাশ কাটিয়ে দুর্ঘটনা এড়ান স্কুটারে থাকা দম্পতি। এর পরেই টোটোচালকের সঙ্গে তাঁদের বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, সেসময় স্থানীয় একটি হোমিওপ্যাথি ওষুধের দোকানে কর্মরত এক ব্যক্তি এসে নবনীতা ও মনতোষের সঙ্গে ঝামেলা শুরু করেন। নবনীতাকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তি করতে থাকেন। মনতোষ প্রতিবাদ করতেই নবনীতাকে মারধর করেন অভিযুক্ত।

ঘটনার পর এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয়রা এসে ওই দম্পতিকে চলে যেতে বলেন। সেখান থেকে বেরিয়ে তাঁরা প্রথমে আসেন শিলিগুড়ি থানায়। মনতোষদের দাবি, থানা থেকে তাঁদের বলা হয় মহরমের জন্য নাকি কোনও পুলিশকর্মী নেই। সোমবার সকালে আসতে হবে। সেইমতো সোমবার সকালে গিয়ে লিখিত অভিযোগ জমা করেন দম্পতি। যদিও তখন তাঁদের জিডি নম্বর দেওয়া হয়নি।

উলটে বলা হয়, ফোন করে ডেকে জিডি নম্বর দেওয়া হবে। মঙ্গলবার থানায় গিয়েও এক কথা শুনতে হয়েছে। অথচ এদিন রাত অবধি জিডি নম্বর দেওয়া হয়নি থানা থেকে। মনতোষের কথায়, ‘তদন্ত তো দূর অস্ত, পুলিশ আমাদের জেনারেল ডায়েরি নম্বরটিও দেয়নি। কীভাবে পুলিশের ওপর সাধারণ মানুষ ভরসা করবে বলুন তো।’

বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ, ভুয়ো নথি চক্রের রমরমা, গ্যাংয়ের দাপাদাপি থেকে দিনদুপুরে ডাকাতি- একের পর এক ঘটনায় শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঙ্কালসার অবস্থা প্রকাশ্যে এসেছে। শিলিগুড়িতে পুলিশের বিরুদ্ধে গা-ঢিলেমির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নাগরিকরা সুরক্ষার দাবিতে সরব হলেও ফুলেশ্বরীর ঘটনায় অভিযোগ নিতে হয়রানি করার ঘটনা বুঝিয়ে দিল বাস্তব পরিস্থিতি আদতে কেমন। শহরবাসীর মুখে একটাই প্রশ্ন, আর কবে পুলিশের টনক নড়বে? আর কবে, আর কবে…



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *