Siliguri | ন্যানো ফিজিক্সের গবেষণা ছেড়ে শ্রমিক আন্দোলনে, সিটু-র নেতৃত্বে শিলিগুড়ির সুদীপ

Siliguri | ন্যানো ফিজিক্সের গবেষণা ছেড়ে শ্রমিক আন্দোলনে, সিটু-র নেতৃত্বে শিলিগুড়ির সুদীপ

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


তমালিকা দে, শিলিগুড়ি: ‘ব্যক্তিগত উন্নয়ন’–এর নানা অভিযোগে রাজনীতি আজ কলুষিত। শিলিগুড়ির (Siliguri) সুদীপ দত্ত অবশ্য বরাবরই নিজের তুলনায় দশের উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যে নিজের সম্ভাবনাময় কেরিয়ারকে হেলায় বিসর্জনও দেন। মানুষের জন্য তাঁর বরাবরের কাজ অবশ্য বিফলে যায়নি। রবিবার বিশাখাপত্তনমে সিটু (CITU)-র সর্বভারতীয় সম্মেলনে তাঁকে সংগঠনের সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। শিলিগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গে খুশির হাওয়া ছড়িয়েছে। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য গৌতম ঘোষ বললেন, ‘এটা আমাদের বিরাট প্রাপ্তি। বহু আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে সুদীপ আজ সর্বভারতীয় স্তরে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন।’ নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর উত্তরবঙ্গের সক্রিয় চা শিল্পে তাঁর নজর থাকবে বলে সুদীপ জানিয়েছেন।

কলকাতার সেন্ট পলস কলেজে পদার্থবিদ্যায় অনার্স নিয়ে পড়ার সময় থেকেই শিলিগুড়ির দেশবন্ধুপাড়ার বাসিন্দা সুদীপ সক্রিয়ভাবে এসএফআই করেছেন। পরে রাজাবাজার সায়েন্স কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর করে ন্যানো ফিজিক্স নিয়ে গবেষণাও শুরু করেছিলেন। পড়াশোনায় তুখোড়। কিন্তু রাজনীতিতেই মনপ্রাণ সঁপে দিয়েছিলেন। আর তাই মাঝপথে গবেষণার কাজ ছেড়ে দেন। সুদীপের কথায়, ‘গবেষণার কাজে আমাকে মাঝেমধ্যেই বিদেশে যেতে হত। পাকাপাকিভাবে বিদেশে চলে গেলে রাজনীতিটা করতে পারতাম না। দেশের শ্রমজীবী মানুষের আন্দোলনকে নতুনভাবে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়েই আমি সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গে জুড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’

শিলিগুড়ি বয়েজ হাইস্কুলের এই প্রাক্তনী ২০১৩ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের চা বাগান আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। এছাড়াও ছোট কারখানা, পরিবহণ সহ বিভিন্ন শ্রমিক আন্দোলনেরও নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই সুবাদে ২০১৭ সালে সিটু-র দার্জিলিং জেলার সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হিসাবে মনোনীত হন। পরবর্তীতে রাজ্য সম্মেলনে সংগঠনের রাজ্য কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য হন। শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে সঙ্গেই সুদীপ সিপিএমের সক্রিয় সদস্য হিসাবেও কাজ করেছেন। এই সুবাদে তাঁকে ২০১৮ সালে দলের দার্জিলিং জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য করা হয়। দীর্ঘদিন জেলা ও রাজ্যের দায়িত্ব সামলানোর পর ২০২১ সালে তিনি দিল্লিতে চলে যান। সেখানে সিটুর সর্বভারতীয় কেন্দ্রে থেকে দেশজুড়ে শ্রমিক আন্দোলনের কাজকর্মে নজরদারি করছেন। ২০২৩ সালে সিটুর অন্যতম জাতীয় সম্পাদক হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

গত বছর শিলিগুড়ির সুদীপকে বিদ্যুৎশিল্পের সর্বভারতীয় ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত করা হয়। এছাড়া তিনি তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি), পেট্রোলিয়াম ফেডারেশন ও শক্তিশিল্পের ফেডারেশনেও সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন এবং ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ ট্রেড ইউনিয়নেও যুক্ত রয়েছেন। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর তরুণ বললেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার যে শ্রমকোড কার্যকর করতে চাইছে তা বাস্তবায়িত হলে ভারতের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার হরণ হবে। এই শ্রমকোডের বিরুদ্ধে আমরা লাগাতার আন্দোলন চালাব।’ শ্রমকোড প্রত্যাহারের দাবিতে ১২ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে বলে সুদীপ জানিয়েছেন। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংগঠন এই ধর্মঘটের সমর্থনে এগিয়ে এসেছে।

উত্তরবঙ্গের চা শিল্পের শ্রমিকদের স্বার্থেও সুদীপ ধারাবাহিক আন্দোলনের কথা বলছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি, বাগানগুলিকে কর্পোরেট সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিবাদ সহ বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন হবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *