পারমিতা রায়, শিলিগুড়ি: শহরে এখন নাকি ভাগ্যও টবে জন্মায় (Siliguri)। তাই ম্যাজিক আংটি ছেড়ে অনেকে ভরসা করছেন ছোট ছোট গাছে (Plant)। একটুখানি সবুজেই নাকি কমবে ইএমআইয়ের চাপ, বসের রাগ, আর বাড়তি টেনশন। তাই কেউ কিনছেন লাকি ব্যাম্বু কেউ আবার পিস লিলি, স্নেক প্ল্যান্ট, জেড প্ল্যান্ট সহ আরও অনেক ধরনের ইন্ডোর প্ল্যান্ট। বাড়িতে শান্তি আসবে, টাকাপয়সা বাড়বে এই আশাতেই এখন অনেকেই গাছ কিনে ঘরে রাখছেন। ঘরের কোণে থাকা গাছেই যদি ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায় তাহলে আর কী চাই।
আগে ঘর সাজাতে মানি প্ল্যান্ট বা অ্যালোভেরা সহ নানা গাছ কেনা হত। এখন এই ইন্ডোর প্ল্যান্টগুলির সঙ্গে জুড়েছে ‘গুড লাক’,‘পজিটিভ এনার্জি’, ‘হেলথ বেনিফিট’-এর মতো তত্ত্ব। তাই শহরের ইন্ডোর প্ল্যান্টের দোকানে ভিড় বেড়েছে। কেউ জ্যোতিষীর কথামতো, কেউ ফেসবুক-বাবার টোটকা শুনে, কেউ শুভাকাঙ্ক্ষীর পরামর্শ মেনে এই গাছ কিনতে যাচ্ছেন।
হংকং মার্কেটের একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে মোবাইলের ছবির সঙ্গে ভালো করে মিলিয়ে গাছ দেখছিলেন মনীষা সাহা। দোকানদারকে বললেন, ‘কাজ করবে তো?’ ব্যবসায়ী নারায়ণ সাহা হেসে উত্তর দিলেন, ‘বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহু দূর। বিশ্বাস করে নিয়ে যান ভালোই হবে।’ কিছুদিন থেকে শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন মনীষা। এক বন্ধুর পরামর্শে বাড়িতে সুস্বাস্থ্য ফেরাতে স্নেক প্ল্যান্ট কিনলেন।
শহরের এক ইন্ডোর প্ল্যান্ট বিক্রেতা গৌরব পাল বলছিলেন, ‘আগে অর্থলাভের জন্য অনেকেই বাড়িতে মানি প্ল্যান্ট লাগাতেন। এখন শুধু মানি প্ল্যান্ট নয়, লাকি ব্যাম্বু, স্নেক প্ল্যান্ট, পিস লিলি, জেড প্ল্যান্ট কিনছেন।’ বাড়িতে ছোট-বড় অনেক সিদ্ধান্ত যে জ্যোতিষীর কথামতো হয় তা বলছিলেন সুরজ দে। এর আগে জ্যোতিষীর কথামতো পিস লিলি, জেড প্ল্যান্ট কিনেছিলেন তবে এবার এসেছেন লাকি ব্যাম্বু নিতে। বেশ বিশ্বাসের সুরেই বলছিলেন, ‘বাড়িতে একটি মনোমালিন্যের সমস্যা চলছিল। সেই সমস্যার সমাধানে পিস লিলি কিনে নিয়ে গিয়েছিলাম। অনেক লাভ হয়েছে তাতে। তাই আর্থিক অবস্থাকে চাঙ্গা করতে লাকি ব্যাম্বু নিয়ে যাচ্ছি।’
কেউ আবার মন ফুরফুরে রাখতেই গাছ লাগাতে তাদের পরিচর্যা করতে ভালোবাসেন। কেউ বিশ্বাসে ভর করে এগুলি কিনছেন, কেউ আবার ঘর সাজাতে। দেশবন্ধুপাড়ার বাসিন্দা সুপ্রীতি সরকারের মায়ের ক্যানসার ধরা পড়েছে বেশ কয়েকমাস হল। মা গাছ খুব ভালোবাসতেন তবে এখন খুব একটা পরিচর্যা করতে পারেন না। তাই ইন্ডোর প্ল্যান্ট কিনতে এসেছিলেন তিনি। আর গাছ দেখানোর সময় যখন দোকানদার বললেন, ‘স্নেক প্ল্যান্ট আর পিস লিলি নিয়ে যান, রোগভোগ পালাবে আর ঘরে শান্তি আসবে।’ সব শুনে নিজেকে আটকে রাখতে না পেরে গাছ দুটি কিনেই ফেললেন। সুপ্রীতি বলেন, ‘এসবে বিশ্বাস করি না। তবে গাছ দেখলেই মায়ের মন ভালো হয়ে যায়। এর জন্যই কিনতে এসেছিলাম। তবে মন ভালোর সঙ্গে যদি গুডলাকও আসে ক্ষতি কী।’ ১৫০ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দামের এই গাছগুলির বিক্রি হচ্ছে দেদারে। কাচের জারে সাজিয়েও বিক্রি হচ্ছে। শহরের নতুন সমীকরণ- ঘরে যত সবুজ জীবন তত শুভ।
