উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) জীবন ও আদর্শকে এবার সিনেমার পর্দায় নিয়ে আসছেন নির্মাতারা। ১৯৪৫ থেকে ১৯৫৩—ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসের এই অত্যন্ত অস্থির ও যুগান্তকারী সময়কালকে ভিত্তি করে তৈরি হতে চলেছে চলচ্চিত্র ‘শ্যামা’ (Shyama cinema)। আজ, ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ছবির পোস্টার প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন সুচন্দ্রা ভানিয়া ও চন্দ্রোদয় পাল।
ছবিটির মূল প্রেক্ষাপট হিসেবে উঠে এসেছে দেশভাগ, বাংলার ভবিষ্যৎ এবং নবভারত নির্মাণের কঠিন সংগ্রাম। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ৫১ বছরের স্বল্প কিন্তু ঘটনাবহুল জীবনের সাহসিকতা, একাগ্রতা ও আত্মত্যাগের কাহিনীই এই চলচ্চিত্রের উপজীব্য। বিশেষ করে দেশভাগের উত্তাল সময়ে পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে টিকিয়ে রাখতে শ্যামাপ্রসাদের রণকৌশল ও ভূমিকা কীভাবে ছিল, তা এই ছবিতে বিশেষ গুরুত্ব পাবে। ভারতের এক সংবিধান ও অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের স্বপ্ন তিনি কীভাবে দেখেছিলেন এবং তার বাস্তবায়নে কী মূল্য তাঁকে চোকাতে হয়েছিল, সেই অধ্যায়ই তুলে ধরবে এই ছবি।
ছবির গবেষণার নেপথ্যে রয়েছেন আইনজীবী তথা বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তিনি জানিয়েছেন, ইতিহাস যেন আজকের প্রজন্মের কাছে সহজবোধ্য হয়ে ওঠে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। তিনি আরও বলেন, “অতীত না জানলে ভবিষ্যৎ হারানোর শঙ্কা থাকে। এই ছবি এমন একটি অনুপ্রেরণামূলক কাহিনি বলবে, যা আজকের জেন-জি (Gen-Z) এবং জেন-আলফাদের (Gen-Alpha) সঙ্গেও এক গভীর সংযোগ তৈরি করবে।” পরিচালক সুচন্দ্রা ভানিয়া জানান, ‘শ্যামা’ নির্মাণের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে তুলে ধরবেন তাঁরা। যা মানুষকে নতুন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করবে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দেশভাগের যন্ত্রণার সেই সময়কালকে রুপোলি পর্দায় ফুটিয়ে তোলার চ্যালেঞ্জ নিতে চলেছেন নির্মাতারা। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বের জীবন নিয়ে নির্মিত ‘শ্যামা’ ছবিটি কি ইতিহাসকে নতুন মোড়কে দর্শকদের সামনে আনবে? নাকি ইতিহাসের কোনো অজানা রহস্যের উন্মোচন করবে এই সিনেমা? সেই অপেক্ষায় এখন সিনেমাপ্রেমী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক—সকলের নজর। ছবির ট্রেলার বা মুক্তির তারিখ নিয়ে নির্মাতারা আপাতত কিছুটা রাখঢাক রাখলেও, পোস্টারটি ঘিরেই নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে চর্চা।

