শুভময় সান্যাল, শিলিগুড়ি: ২০১৯ সাল। নীল জার্সি তখনও গায়ে ওঠেনি রিচা ঘোষের। সেই সময়টাতেই বোধহয় ললাটলিখন হয়ে গিয়েছিল ‘ফিনিশার’ রিচার। যার কারিগর ছিলেন তৎকালীন বাংলা মহিলা দলের কোচ শিবশংকর পাল। তখনও ওপেনিং করতে অভ্যস্ত শিলিগুড়ির মেয়েকে তিনিই নামিয়ে এনেছিলেন ছয় নম্বরে।
মহানন্দা দিয়ে জল গড়িয়ে যাওয়ার সঙ্গে রিচাও ভারতীয় দলে পাকাপাকি জায়গা করে নিয়েছেন। কিন্তু শিবশংকরের প্রতি ভরসা এতটুকু টাল খায়নি। তাই ওডিআই বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে স্পেশাল ট্রেনিং করতে চলে গিয়েছিলেন প্রাক্তন কোচের পাটুলি ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে।
বৃহস্পতিবার ভাইজ্যাগের মাঠে বদলে যাওয়া রিচার কেরামতিতেই ভারতীয় দল ১০২/৬-এর অস্বস্তি কাটিয়ে ২৫১ রানে পৌঁছে গিয়েছে। আর ৭৭ বলে ৯৪ রানের রিচার ইনিংস দেখে আবেগে ভেসে গিয়েছেন তুফানগঞ্জের শিবশংকর। বলেছেন, ‘অসাধারণ ইনিংস খেলল। পুরো কৃতিত্ব ওর। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ছক্কা মারতে পারাটা রিচার প্লাস পয়েন্ট।’
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ব্যাটিংয়ের সময় সেটা যেমন দেখা গিয়েছে তেমনি বেশ কিছু পরিবর্তনও চোখে পড়েছে রিচার ম্যাকো স্যরের। সেই কথাই সামনে এনে তিনি বলেছেন, ‘আজকাল এত খেলা হয় যে কারও শক্তি-দুর্বলতাই আর চাপা থাকে না। আজকে রিচার বিরুদ্ধে প্রোটিয়াদের পরিকল্পনা দেখলেই সেটা বোঝা যাবে। ওর ইনিংসের শুরুর দিকে ডিপ কভারে ফিল্ডার রেখে অফ স্টাম্পের বাইরে বল রেখে গিয়েছে ওরা। শর্ট পিচ বোলিং করেছে মিড অন দাঁড় করিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকা ভিডিও অ্যানালিসিস করে দেখেছিল ও শর্ট পিচ বল ভালো খেলতে পারে না। কিন্তু বিপক্ষের সব হিসেব গুলিয়ে দিয়ে ও সরে গিয়ে কভারের ওপর দিয়ে চালিয়েছে।’
রিচা গেম প্ল্যানে এই বদলটা যে আনতে চলেছেন সেটা বিশ্বকাপের আগে পাটুলি অ্যাকাডেমিতে প্র্যাকটিসের সময় ম্যাকোর চোখে পড়েছিল। বলেছেন, ‘আমার তো মনে হয় প্র্যাকটিস করাটা রিচার নেশা। জাতীয় দলের দায়িত্বপালন শেষের একদিনের মধ্যে অ্যাকাডেমিতে প্র্যাকটিসে চলে আসত। এবার দেখলাম রিভার্স সুইপ-স্কুপ অনুশীলন করতে। অ্যাকাডেমির থ্রো ডাউন স্পেশালিস্ট মহাদেব দত্তকে নিয়ে ম্যাচ সিচুয়েশন তৈরি করে অনুশীলন করে গিয়েছে।’
এর বাইরে আরও একটা জিনিস তাঁর চোখে পড়েছে রিচার ব্যাটিংয়ে। বলেছেন, ‘খুব ঠান্ডা মাথায় ইনিংস এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে ও। খুব পরিণত ইনিংস দেখলাম ওর থেকে। অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দল ওর ভূমিকাটা পরিষ্কারভাবে বুঝতে পেরেছে।’
