উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আজ (১৭ নভেম্বর) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT))। তবে অন্য একটি কারণেও এই দিনটি শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ তারিখ। আজ থেকে ঠিক ৫৮ বছর আগে, ১৯৬৭ সালের এই দিনে বিশিষ্ট পদার্থবিদ ড: এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়। যার ফলে শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)-এর দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের তারিখ নিয়ে সমাজমাধ্যমে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, আইসিটি (ICT) প্রথমে ২৩ অক্টোবর মামলার বিচার শেষ করে ১৪ নভেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছিল। কিন্তু, ১৩ নভেম্বর আইসিটি ঘোষণা করে যে, রায়টি ১৭ নভেম্বর ঘোষণা করা হবে। কেউ কেউ ট্রাইব্যুনালের এই তারিখ নির্বাচনকে কাকতালীয় বললেও, অপর একটি অংশ অভিযোগ করেছে যে, রায় ঘোষণার তারিখটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে একজন সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, “ড: ইউনূস এত ধূর্ত। মামলার রায় কয়েক দিন আগে দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তিনি ১৭ নভেম্বর তারিখটি দেন, কারণ এটি হাসিনার বিবাহবার্ষিকী।”
অপরদিকে শেখ হাসিনা এই রায়কে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ট্রাইব্যুনাল এখন একটি ‘কারচুপিপূর্ণ’ সংস্থা, যা অনির্বাচিত সরকারের দ্বারা পরিচালিত। তিনি এও দাবি করেন যে, এই ট্রাইবুনাল আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে অকার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ করছে। তাঁর মতে, তিনি ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং রায়টি ইউনূসের ‘চরমপন্থী’ মিত্রদের দ্বারা পরিচালিত এবং পূর্বনির্ধারিত ছিল।
প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনার স্বামী এম এ ওয়াজেদ মিয়া ছিলেন একজন বিশিষ্ট পদার্থবিদ এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান। তিনি ২০০৯ সালের মে মাসে মারা যান। এই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে— সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।
