উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে (Sheikh Hasina) সোমবার ফাঁসির সাজা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবিউনাল (ICT)। বাংলাদেশে (Bangladesh) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা শোনানো হয়েছে। এবার সাজা ঘোষণা হতেই এনিয়ে প্রথম প্রতিক্রিয়া দিলেন শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, এই রায় পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এদিন সাজা ঘোষণার পরই একটি দীর্ঘ বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে রায়গুলি ঘোষণা করেছে একটি কারচুপিপূর্ণ ট্রাইবিউনাল। যা আবার একটি অনির্বাচিত সরকারের অধীনস্থ। তাই এই রায় পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বাংলাদেশের শেষ নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে অপসারণ করতে এবং আওয়ামি লিগকে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বাতিল করার জন্যই এই রায় দেওয়া হয়েছে। যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে থাকা চরমপন্থীদের নির্লজ্জতা ও খুনি মনোভাবের প্রকাশ।’
এরপরই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসকে তোপ দেগে তিনি বলেন, ‘মুহাম্মদ ইউনূসের বিশৃঙ্খল, সহিংস এবং সামাজিকভাবে-পশ্চাদগামী প্রশাসন লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশিদের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে কাউকে বোকা বানাতে পারবে না।’ মুজিব-কন্যার অভিযোগ, ইউনূসের আমলে বাংলাদেশে নেতৃত্ব, জনসেবা ভেঙে পড়েছে। বিচার ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়েছে, আওয়ামি লিগের সদস্যদের উপর আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। হিন্দু এবং অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ করা হচ্ছে এবং নারীর অধিকার দমন করা হচ্ছে। চরমপন্থীরা বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের দীর্ঘ ঐতিহ্যকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
সেই সঙ্গে হাসিনা নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করার এই রায় পূর্বনির্ধারিত ছিল। তাঁর কথায়, ‘আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও ন্যায্য সুযোগ দেওয়া হয়নি আমাকে। এমনকি নিজের পছন্দমতো আইনজীবীও বাছার সুযোগ দেওয়া হয়নি।’ বিশ্বের কোনও প্রকৃত পেশাদার আইনজীবী বাংলাদেশের ট্রাইবিউনালের এই রায় সমর্থন করবেন না বলে দাবি করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন রয়েছে। তার কয়েক মাস আগেই এই রায় ঘোষণা রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও তীব্র করে তুলেছে। কারণ ইতিমধ্যেই সেখানে আওয়ামি লিগ নিষিদ্ধ। তবে হাসিনা আশাবাদী যে, আগামী বছর বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই অবাধ, সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।
