উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার বদলে আবারও সেই পুরোনো ‘কাশ্মীর রাগ’ ধরল ইসলামাবাদ। বৃহস্পতিবার ‘কাশ্মীর সংহতি দিবস’ পালনের আবহে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz’s Kashmir Rhetoric) দাবি করেছেন যে, কাশ্মীর অদূর ভবিষ্যতে পাকিস্তানের অংশ হবে! একইসঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীর সংক্রান্ত বিরোধ মেটাতে ভারতকে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য এক বিশেষ বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
পুরনো দাবি ও জিন্নার প্রসঙ্গ: পাক অধিকৃত কাশ্মীর (Kashmir Subject) থেকে দেওয়া এক ভাষণে শাহবাজ শরিফ কাশ্মীরকে পাকিস্তানের বিদেশনীতির ‘ভিত্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মহম্মদ আলি জিন্নার উক্তি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, কাশ্মীর হলো পাকিস্তানের ‘গলার শিরা’। তাঁর মতে, এই বিবাদ মেটানোর একমাত্র পথ হলো কাশ্মীরের মানুষের ইচ্ছাকে মর্যাদা দেওয়া। শাহবাজের এই বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে আবারও চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
প্যালেস্তাইনের সঙ্গে তুলনা ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রশংসা: শাহবাজ শরিফ (Shahbaz Sharif) কাশ্মীর পরিস্থিতিকে প্যালেস্তাইনের সঙ্গে তুলনা করে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে কুখ্যাত জঙ্গি নেতা বুরহান ওয়ানি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা সৈয়দ আলি শাহ গিলানির নাম। এছাড়াও তিনি ইয়াসিন মালিক, মিরওয়াইজ ওমর ফারুক ও আসিয়া আন্দ্রাবির মতো নেতাদের প্রতিও সমর্থন প্রকাশ করেন। ভারতের পক্ষ থেকে যা প্ররোচনামূলক বলেই মনে করা হচ্ছে।
সেনা ও প্রশাসনের ‘এক সুর’: কেবল রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীও কাশ্মীর ইস্যুতে সুর চড়িয়েছে। পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির-সহ তিন বাহিনীর প্রধানরা কাশ্মীরের নাগরিকদের প্রতি তাঁদের ‘পূর্ণ সমর্থন’ ঘোষণা করেছেন। ফিল্ড মার্শাল বিভিন্ন সামরিক এলাকা পরিদর্শন করেন, যা প্রতিবেশী দেশের রণকৌশলগত অবস্থানেরই ইঙ্গিত দেয়। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারিও এই ইস্যুতে পূর্ণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
ভারতের অবস্থান: ভারত বরাবরই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এটি সম্পূর্ণভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ২০২৫ সালের অপারেশন সিঁদুর পরবর্তী পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের এই সক্রিয়তা আসলে নজর ঘোরানোর কৌশল কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। শাহবাজের এই বার্তার পর নয়াদিল্লির তরফে কড়া প্রতিক্রিয়া আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
