Alipurduar | ১৮ বছর ধরে ‘পাশ-ফেল’ নেই! পরীক্ষার অপেক্ষায় টোলের পড়ুয়ারা

Alipurduar | ১৮ বছর ধরে ‘পাশ-ফেল’ নেই! পরীক্ষার অপেক্ষায় টোলের পড়ুয়ারা

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


প্রণব সূত্রধর, আলিপুরদুয়ার: স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে সিমেস্টার, বার্ষিক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। অথচ প্রায় ১৮ বছর ধরে পরীক্ষা বন্ধ আলিপুরদুয়ারের টোলে (সংস্কৃত কলেজ)। ২০০৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর নাগাদ শেষ পরীক্ষা হয়েছিল। তারপর থেকে সরকারিভাবে টোলগুলিতে পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ। আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের পলাশবাড়িতে দ্বারিকানাথ চতুষ্পাঠী’র ছাত্রছাত্রীরা এখনও পরীক্ষার আশায় বসে রয়েছেন। কেন পরীক্ষা বন্ধ, সদুত্তর নেই কারও কাছে। এই দীর্ঘ সময়ে টোলে পরীক্ষা নেওয়ার অনুমতি মেলেনি বলে খবর। পড়ুয়াদের অনেকেই আশাহত হয়ে বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছেন। এবিষয়ে স্কুল পরিদর্শক (প্রাথমিক) লক্ষণা গোলে বলেন, ‘টোলে পরীক্ষার বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে। পরীক্ষার বিষয়ে কোনও নির্দেশিকা আসেনি।’ কলকাতা সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের টোল বিভাগের সম্পাদক পলাশ বিশ্বাস জানালেন, টোলে ফের পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে কথাবার্তা চলছে।

একসময় দ্বারিকানাথ চতুষ্পাঠী প্রায় তিন বিঘা জমির উপর গড়ে ওঠে। কয়েক বছর চলার পর এই সংস্কৃত কলেজ ১৯৩৬ সালে সরকারি অনুমোদন পায়। তবে কালজানি নদীর বাঁধ নির্মাণ সহ একাধিক উন্নয়নমূলক কাজের জন্য টোলের জমির পরিমাণ কমে যায়। এখন অবশ্য টোলের একাংশ জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি এ বিষয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছে টোল কর্তৃপক্ষ।

বাম আমলের শেষের দিকে টোলের জন্য সরকারি উন্নয়নমূলক অনুদান আসা একরকম বন্ধ হয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত অধ্যক্ষরা মাসিক সাত হাজার টাকা সাম্মানিক পান। সমস্যা মেটাতে টোলের অধ্যক্ষরা শিক্ষামন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে সমস্যা সেই তিমিরেই। দ্বারিকানাথ চতুষ্পাঠীর অধ্যক্ষ নিত্যানন্দ নন্দী বলেন, ‘টোলে পরীক্ষা পদ্ধতির অনুমতি মিললে ফের নতুন ছাত্রছাত্রী ভর্তি হবে। এখনও অনেক ছাত্রছাত্রী পরীক্ষার আশায় রয়েছে। টোলগুলিকে স্বমহিমায় ফেরাতে সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।’

টোলে মাধ্যমিক পাশের পর থেকেই ভর্তির সুযোগ রয়েছে। ব্যাকরণ (পাণিনি, সারস্বত, চন্দ্রিকা, কলাপ ব্যাকরণ) সাহিত্য, স্মৃতি শাস্ত্র, ন্যায়শাস্ত্র, বেদান্ত দর্শন, শাঙ্খ দর্শন, ষড়দর্শন, বেদ, উপনিষদ, পুরাণ, জ্যোতিষ শাস্ত্র ছাড়াও পৌরহিত্য শেখানো হয়। প্রতিটি বিষয় তিন বছরের কোর্স। অদ্য (প্রথম বর্ষ ) মধ্য ( ২য় বর্ষ) এবং তীর্থ (তৃতীয় বর্ষ) এই তিন বছর পর পড়ুয়ারা সেই বিষয়ে ডিগ্রি অর্থাৎ তীর্থ পদ লাভ করতে পারেন। তাঁরা কাব্য তীর্থ, শাস্ত্র তীর্থ ইত্যাদি উপাধিতে ভূষিত হন। একজন একাধিক বিষয়ে তীর্থ হতে পারেন।

বিনয় মিশ্র, ময়াঙ্ক লাহিড়ির মতো ছাত্ররা বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত হলেও তাঁরা পরীক্ষা দেওয়ার প্রতীক্ষা করছেন। এক ছাত্রের কথায়, ‘এক সময় টোলে পড়াশোনা করেছি কিন্তু পরীক্ষা আর হয়নি। পরবর্তীতে কাজে জড়িয়ে পড়ি। তবে এখনও সময় পেলে পড়াশোনা করি। অনুমতি মিললে অবশ্যই পরীক্ষা দেব।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *