উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন জেলায় বামপন্থী দলগুলির বুক স্টল ভাঙচুর, কর্মীদের ওপর আক্রমণ এবং রাস্তায় বই ছুড়ে ফেলার ঘটনায় রাজনৈতিক পারদ চড়েছে। এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদে সরব হয়েছে শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরই। এমনকী রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এবং আরএসএস নেতা জিষ্ণু বসুর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরাও এই ঘটনার নিন্দা করেছেন। এই পরিস্থিতিতে সমস্ত বিতর্কের জল ঢেলে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (shamik-bhattacharya) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, সিপিএমের বইয়ের স্টল ভাঙচুরের সঙ্গে দলের বিন্দুমাত্র কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর মতে, কোনও প্রকৃত রাজনৈতিক কর্মী বা সুস্থ-স্বাভাবিক বিজেপি সমর্থক কখনওই বই মাটিতে ফেলে দিতে পারেন না কিংবা স্টলে ভাঙচুর চালাতে পারেন না।
এর আগে বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারী কড়া অবস্থান নিয়ে ঘোষণা করেছিলেন যে, ‘শারোদৎসব’ শব্দ ব্যবহার করা হলে স্টল করার অনুমতি দেওয়া হবে না, তার বদলে ‘দুর্গাপুজো’ বা ‘দুর্গোৎসব’ লিখতে হবে। যদিও বামেরা সেই নির্দেশিকাকে তোয়াক্কা না করে নিজেদের মতো করেই এগিয়েছে। এরপর থেকেই স্টলগুলিতে আক্রমণ বাড়তে থাকে এবং যাদবপুরের এইট বি বাসস্ট্যান্ডে বামেদের স্টল ভাঙতে বুলডোজার পর্যন্ত নামানোর অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। এই প্রেক্ষাপটেই বিজেপি রাজ্য সভাপতির সাফ মন্তব্য, যাঁরা এই অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা আসলে ‘তৎকাল বিজেপি’ বা সুযোগসন্ধানী। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেই এই ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলে দাবি করে শমীকবাবু একে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছেন এবং ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে চিহ্নিতও করা হয়েছে বলে জানান।
বক্তব্যের শেষে তিনি আরও বলেন যে, ‘প্রত্যেকেরই বুক স্টল করার, সরকারের নীতির সমালোচনা করার এবং পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে রাজনৈতিক আন্দোলন করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। রাজ্যে দীর্ঘকাল ধরে সেই প্রতিবাদের অধিকারই কার্যত কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, যার বিরুদ্ধে লড়াই করেই আজ মানুষের সমর্থন অর্জন করেছে তাঁদের দল। ফলে দলের পুরোনো আদর্শ ও সংগ্রামের নীতি থেকে সরে এসে এ ধরনের হিংসার সমর্থন তাঁরা যে করেন না, তা শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

