আয়ুষ্মান চক্রবর্তী, আলিপুরদুয়ার: ক্রিসমাস মানেই হরেকরকম স্বাদের কেক। বড়দিন উপলক্ষ্যে অনেকে নিজের পরিচিতদের উপহার হিসেবে কেক দেন। কেউ আবার বন্ধুবান্ধবদের নিমন্ত্রণ করে কেক খাওয়ান। ফলে এই সময় কেকের চাহিদা বেশ বেড়ে যায়। এই চাহিদা পূরণ করতে শহরের বিভিন্ন বেকারি এবং যাঁরা হোমমেড কেক তৈরি করেন তাঁরা বেশ ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। দিন যত এগোচ্ছে তাঁদের কাজের চাপও তত বেড়ে চলেছে। বাজারে বিভিন্ন নামীদামি কেকের কোম্পানি থাকলেও বড়দিন উপলক্ষ্যে স্থানীয় বেকারি ও হোমমেড কেকের চাহিদা বেশি (Selfmade Cake)।
আলিপুরদুয়ারে যে কয়টি বেকারি রয়েছে সেগুলিতে আপাতত জোরকদমে কেক বানানো চলছে। চাহিদা রয়েছে ফ্রুট কেক, প্লাম কেক, স্পঞ্জ কেক, বাটার কেক, মাওয়া কেক ও কাপ কেকের। অর্ডার অনুযায়ী বিভিন্ন জায়গায় কেক পাঠাতেও শুরু করে দিয়েছেন তাঁরা।
দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে স্থানীয় একটি বেকারিতে ফ্রুট কেক, স্পঞ্জ কেকের পাশাপাশি মাফিন, চকোলেট ও ভ্যানিলা পেস্ট্রি বানানো হয়। ওই বেকারির তরফে সুভাশিস দে জানান, এবছর বড়দিন উপলক্ষ্যে তাঁদের বেকারিতে প্রায় তিন হাজার ফ্রুট কেক, হাজারখানেক স্পঞ্জ কেক এবং প্রায় পাঁচ হাজারটি মাফিন বানানো হচ্ছে।
প্রায় আট বছরের পুরোনো একটি বেকারির তরফে গোপাল দাস বলেন, ‘বড়দিন উপলক্ষ্যে ফ্রুট কেকের চাহিদা সব থেকে বেশি থাকে। তবে কাপ কেকেরও বেশ ভালো চাহিদা রয়েছে। আমাদের বেকারিতে বড়দিনের প্রায় দুই সপ্তাহ আগের থেকে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।’
শহরের অপর একটি বেকারির তরফে দেবজ্যোতি সাহা জানান, প্লাম, ফ্রুট, বাটার ও মাওয়া কেকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তাঁদের বেকারিতে প্রায় দু’হাজারটি কেক তৈরি হচ্ছে। অর্ডার পেলে আরও তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি। কিছু ক্রিসমাস থিমের ওপর ক্রিম কেকও তৈরি করা হবে। তবে সেগুলি বড়দিনের দু’দিন আগের থেকে তৈরি করা হবে।
বেকারির পাশাপাশি চাহিদা রয়েছে হোমমেড কেকেরও। ইতিমধ্যে যাঁরা বাড়িতে কেক বানান তাঁদের কাছে অর্ডার আসতে শুরু করে দিয়েছে। রিচ প্লাম কেক, ফ্রুট কেক, সুগার ফ্রি প্লাম কেক, অরেঞ্জ কেক, লেমন কেক, কাপ কেক থেকে শুরু করে ফ্রেশ ক্রিম দিয়ে তৈরি ক্রিসমাস থিমের কেক, বেন্টো কেকের চাহিদা রয়েছে। হোমমেড কেক তৈরি করেন অরিত্রিকা দাস। তিনি বলেন, ‘প্রায় এক সপ্তাহ আগের থেকে নলেন গুড়ের কেক, ড্রাই ফ্রুট প্লাম কেক, বেন্টো কেক বানানো হচ্ছে। এবছর ক্রিসমাস উপলক্ষ্যে প্রায় আটশোটি কেক বানাব।’ আরেক হোমমেড কেক প্রস্তুতকারক প্রিয়া দে জানান, রিচ ফ্রুট কেক ও প্লাম কেকের পাশাপাশি মিল্ক কেক ও ফ্রুট কেকও বানানো হবে।
এশা দাসও বাড়িতে কেক বানান। তাঁর কথায়, ‘এবছর বড়দিন উপলক্ষ্যে অরেঞ্জ কেক, লেমন কেক, সুগার ফ্রি প্লাম কেক, ক্রিসমাস বেন্টো কেক ও কাপ কেকের চাহিদা রয়েছে।’ তিনি এবছর পাঁচশোর বেশি কেক বানাবেন।
