উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ ‘ফোর মোর শটস প্লিজ’ খ্যাত অভিনেত্রী সায়নী গুপ্ত আজ বলিউডের পরিচিত মুখ। কিন্তু তাঁর এই সাফল্যের পথটা একেবারেই মসৃণ ছিল না। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সায়নী জানিয়েছেন, অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার জন্য তাঁকে নিজের মায়ের চরম বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছিল। এমনকি তাঁর মা হুমকি দিয়েছিলেন যে, সায়নী অভিনয়ে গেলে তিনি নিজের হাতের শিরা কেটে ফেলবেন!
২১ বছরেই উচ্চবেতনের চাকরি
সায়নী জানান, মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি একটি নামী সংস্থায় উচ্চবেতনের কর্পোরেট চাকরি করতেন। কিন্তু একঘেয়েমি কাটাতে এবং নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে তিনি পুণের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (FTII)-তে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সায়নী বলেন, “দেড় বছর সেই চাকরি করে আমি প্রচুর টাকা কামিয়েছিলাম, কিন্তু আমি বুঝেছিলাম এটা আমার জন্য নয়।”
মায়ের ‘কঠিন’ দৃষ্টিভঙ্গি ও বাধা
একক অভিভাবক হিসেবে বড় করা সায়নীকে নিয়ে তাঁর মায়ের দুশ্চিন্তা ছিল চরমে। সায়নী স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমার মা মনে করতেন অভিনেত্রীরা ভালো চরিত্রের নন। আমাকে রিহার্সালে যেতে বাধা দিতে ঘর বন্ধ করে রাখতেন তিনি।” এফটিআইআই-তে সুযোগ পাওয়ার পর মা তাঁর সঙ্গে এক মাস কথা পর্যন্ত বলেননি। যদিও সায়নীর বাবা তাঁর স্বপ্নের প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতিশীল ছিলেন।
যেভাবে গলল বরফ
সায়নী যখন এফটিআইআই-তে পড়াশোনা শুরু করেন, তখন তাঁর মা সেখানে তাকে দেখতে যান। ক্যাম্পাসে বয়স্ক চরিত্রের অভাব থাকায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই ৫টি স্টুডেন্ট ফিল্মে অভিনয়ের প্রস্তাব পান সায়নীর মা! তিনটি শর্ট ফিল্মে অভিনয় করার পর তিনি কিছুটা নমনীয় হন এবং বলেন, “হয়তো এই কাজটা করা খুব একটা খারাপ নয়।”
‘ফোর মোর শটস প্লিজ’ নিয়ে বড় আপডেট
একই সাক্ষাৎকারে সায়নী ইঙ্গিত দিয়েছেন তাঁর জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘ফোর মোর শটস প্লিজ’-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে। তিনি জানান, চতুর্থ সিজনের পর এই সিরিজটি নিয়ে বড় পর্দার সিনেমা তৈরির পরিকল্পনা করছেন নির্মাতারা। ঠিক যেভাবে ‘মির্জাপুর’ সিরিজের সিনেমা নিয়ে কাজ চলছে।
সায়নী গুপ্তের উল্লেখযোগ্য কিছু কাজ:
• জলি এলএলবি ২
• আর্টিকেল ১৫
• পাগলাইত
• অ্যাক্সোন (Axone)
সায়নী গুপ্তের এই লড়াই আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, স্বপ্নের পথে বাধা যতই কঠিন হোক, জেদ থাকলে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব।
