তিনি দেখেছেন দু’টি বিশ্বযুদ্ধ। চোখের সামনে বদলে যেতে দেখেছেন গোটা দুনিয়াটাই। প্রায় দেড়শো বছরে পৌঁছে প্রয়াত হলেন সৌদি আরবের সবচেয়ে প্রবীণ নাগরিক। তাঁর নাম শেখ নাসের বিন রাদ্দান আল রশিদ আল ওয়াদাইয়ের। রেখে গেলেন ১৩৪ জন সন্তান, নাতি-পুতি। বর্ষীয়ান মানুষটি দেখেছেন দু’টি বিশ্বযুদ্ধ। দেখেছেন আরও অনেক কিছুই, এক জীবনে যা দেখতে পাওয়া অবিশ্বাস্য।
আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, গত ১১ জানুয়ারি মারা গিয়েছেন সৌদি আরবের দাহরান আল এলাকায় জন্মগ্রহণ করা আল রশিদ। পরিবারের দাবি, তাঁর বয়স হয়েছিল ১৪২ বছর। যদি এই দাবি সত্যি হয়, তাহলে তাঁর জন্ম উনবিংশ শতকে। এমন একটা সময়ে, যখন আজকের সৌদি আরবের জন্মই হয়নি। অর্থাৎ তিনি তাঁর দেশকে মরুপ্রদেশ থেকে আধুনিক এক দেশে পরিণত হতে দেখেছেন। স্বাধীন দেশ হিসাবে সৌদির জন্ম হয়েছিল ১৯৩২ সালে। বহু সৌদি শাসকের শাসনকালেরও সাক্ষী ছিলেন মানুষটি।
১১০ বছর বয়সে শেষবার বিয়ে করেছিলেন শতায়ু মানুষটি। পরে তাঁর আরও একটি কন্যাসন্তানও হয়। যা খবরের শিরোনাম হয়েছিল সারা পৃথিবীর সংবাদমাধ্যমেই।
যাঁরা তাঁকে চিনতেন, সকলেই জানিয়েছেন আল রশিদের জীবনের ভরকেন্দ্রে ছিল ধর্ম ও পরিবার। সারা জীবনে চল্লিশ বারেরও বেশি তিনি হজযাত্রা করেছেন। গোটা জীবদ্দশায় যা অন্তত দু’বার থাকলেই বহু মানুষ মনে করেন জীবন কৃতার্থ হয়ে গিয়েছে। অনেকেরই মতে এতবার হজে যাওয়াটা স্রেফ সংখ্যা দিয়ে বিচার করা যাবে না। এর নেপথ্যে রয়েছে, তাঁর তীব্র ধর্মবিশ্বাস। এমনকী বয়সকেও তোয়াক্কা করেননি ধর্মাচরণের সময়। এমন এক মানুষের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া। তাঁর শবযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন হাজার সাতেকের বেশি মানুষ।
আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, ১১০ বছর বয়সে শেষবার বিয়ে করেছিলেন শতায়ু মানুষটি। পরে তাঁর আরও একটি কন্যাসন্তানও হয়। যা খবরের শিরোনাম হয়েছিল সারা পৃথিবীর সংবাদমাধ্যমেই। সব মিলিয়ে ১৩৪ জন সন্তান, নাতি-পুতি- বিরাট এক পরিবার রেখে চিরবিদায় নিলেন রশিদ।
সর্বশেষ খবর
