Sanchar Saathi | স্মার্টফোনে বাধ্যতামূলক ‘সঞ্চার সাথী’ অ্যাপ! কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকায় বিতর্ক

Sanchar Saathi | স্মার্টফোনে বাধ্যতামূলক ‘সঞ্চার সাথী’ অ্যাপ! কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকায় বিতর্ক

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং টেলিকম প্রতারণা মোকাবিলায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল ভারত সরকার। ডিপার্টমেন্ট অফ টেলিকমিউনিকেশনস (DoT) সম্প্রতি এক নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে, যেখানে দেশের সমস্ত মোবাইল হ্যান্ডসেট প্রস্তুতকারক ও আমদানিকারকদের জন্য তাদের ডিভাইসে রাষ্ট্র-পরিচালিত সাইবার নিরাপত্তা অ্যাপ ‘সঞ্চার সাথী’(Sanchar Saathi) প্রি-ইনস্টল করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নির্দেশ কার্যকর হয়েছে গত ২৮ নভেম্বর থেকে।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, মোবাইল প্রস্তুতকারক ও আমদানিকারকদের ৯০ দিনের মধ্যে এই প্রি-ইনস্টলেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে এবং ১২০ দিনের মধ্যে এর কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হল নাগরিকদের জাল বা নন-জেনুইন হ্যান্ডসেট কেনা থেকে রক্ষা করা এবং টেলিকম অপব্যবহারের সন্দেহজনক কার্যকলাপ দ্রুত রিপোর্ট করার সুবিধা দেওয়া।

এই নতুন নির্দেশ অনুযায়ী পুরনো ফোন, যা ইতিমধ্যেই ভারতের বাজারে রয়েছে, সেগুলিতেও প্রস্তুতকারকদের সফটওয়্যার আপডেটের (OTA) মাধ্যমে অ্যাপটি সরবরাহ করতে হবে। প্রথমবার ডিভাইস সেটআপের সময়ই অ্যাপটি ব্যবহারকারীর কাছে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ও অ্যাক্সেসযোগ্য থাকতে হবে।

টেলিকম নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সাইবার প্রতারণা মোকাবিলার জন্য DoT দ্বারা তৈরি এই ‘সঞ্চার সাথী’ অ্যাপটি ব্যবহারকারীরা যেসব সুবিধা পাবেন সেগুলি হল, IMEI নম্বর ব্যবহার করে হ্যান্ডসেটটি আসল কিনা তা যাচাই করা, হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়া ডিভাইসের রিপোর্ট করা এবং সেগুলিকে ট্র্যাক করা, ব্যবহারকারীর নামে নিবন্ধিত মোবাইল সংযোগগুলি পরীক্ষা করা ইত্যাদি।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে চালু হওয়ার পর থেকে এই অ্যাপটি ৭ লক্ষেরও বেশি হারানো বা চুরি যাওয়া ফোন উদ্ধারে সহায়তা করেছে। নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নকল বা স্পুফড IMEI নম্বর সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই অ্যাপ অপরিহার্য, যা চুরি যাওয়া বা ব্ল্যাকলিস্টেড ফোনগুলির পুনঃবিক্রয় রোধে সহায়ক হবে।

এই বাধ্যতামূলক নির্দেশের ফলে Apple, Samsung, Vivo, Oppo, এবং Xiaomi-সহ অন্যান্য বড় স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি সরাসরি প্রভাবিত হবে। বিশেষত Apple, যারা এর আগে সরকারি অ্যান্টি-স্প্যাম অ্যাপের বিষয়ে সমালোচনা করেছিল, তাদেরও এই নিয়ম মানতে হবে।

সরকারের এই পদক্ষেপ নিয়ে ইতিমধ্যেই ডিজিটাল অধিকার কর্মীরা (digital rights activist) সমালোচনা করেছেন। ডিজিটাল রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট এবং MediaNama-এর প্রতিষ্ঠাতা নিখিল পাহওয়া এই পদক্ষেপকে ‘স্বৈরাচারী’ বলে অভিহিত করেছেন।

তিনি বলেন, “ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও ডিভাইসে একটি অপসারণ-অযোগ্য রাষ্ট্রীয় অ্যাপ বাধ্যতামূলক করা হল।” পাহওয়ার মতে, সঞ্চার সাথী মূলত একটি হারানো ফোন ট্র্যাকার হলেও, এটি মুছে ফেলার সুযোগ না থাকলে এটি কার্যত ডিভাইসে সরকারের একটি ট্র্যাকার হয়ে উঠবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, DoT কোনও জনসাধারণের পরামর্শ ছাড়াই এই নির্দেশ জারি করেছে।

এদিকে, DoT সম্প্রতি WhatsApp এবং Telegram-এর মতো ওভার-দ্য-টপ (OTT) যোগাযোগ অ্যাপগুলিকেও ৯০ দিনের মধ্যে SIM-binding নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে, ব্যবহারকারী যে সিম কার্ড দিয়ে অ্যাপ্লিকেশনটিতে নিবন্ধন করেছেন, সেটি ছাড়া অন্য কোনও সিম কার্ড ব্যবহার করে পরিষেবাগুলি অ্যাক্সেস করতে পারবেন না।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *